মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলের বাজারে ধাক্কা, একদিনেই দাম বাড়ল ১০ শতাংশ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মার্চ ১, ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলের বাজারে ধাক্কা, একদিনেই দাম বাড়ল ১০ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে সামরিক সংঘাত তীব্র হওয়ায় একদিনেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার বাজার খোলার আগেই ‘ওভার দ্য কাউন্টার’ লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ায় তেল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আইসিআইএসের এনার্জি ও রিফাইনিং বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার বলেন, সামরিক উত্তেজনাই তেলের দাম বৃদ্ধির মূল কারণ। তাঁর মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের সতর্কবার্তার পর একাধিক তেল ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশের বেশি এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।

জ্বালানি তেলের বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আইসিআইএসের এনার্জি ও রিফাইনিং বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার বলেন, চলমান সামরিক অভিযানই তেলের দাম দ্রুত বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি সতর্ক করে জানান, হরমুজ প্রণালি যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য অচল হয়ে পড়ে, তাহলে খুব দ্রুত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, এমনকি তা ছাড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।    

একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছেন আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বিশ্লেষক হেলিমা ক্রফট। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, তেলবাজারে অস্থিরতাও তত গভীর হবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের ঘোষণার পর একাধিক তেল ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের ২০ শতাংশেরও বেশি এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়।

এদিকে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস ঘোষণা দিয়েছে, আগামী এপ্রিল থেকে প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল করে উৎপাদন বাড়ানো হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় এই পরিমাণ খুবই নগণ্য। মোট চাহিদার শূন্য দশমিক ২ শতাংশেরও কম যা বর্তমান সংকট সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।

জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্টাড এনার্জির অর্থনীতিবিদ জর্জ লোন বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ১০০ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। তাঁর মতে, পূর্ণাঙ্গ বাজার লেনদেন শুরু হলে তেলের দাম অন্তত ২০ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে জ্বালানি বাজারে এই অস্থিরতা আরও গভীর হবে এবং তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়বে।

 

Link copied!