ছবি: সংগৃহীত
সিয়াটল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘জি’-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে বেলজিয়াম ও মিশর ১-১ গোলের সমতায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। কেভিন ডি ব্রুইনার নেতৃত্বাধীন বেলজিয়াম এবং মোহাম্মদ সালাহর মিশরের মধ্যকার হাই-প্রোফাইল এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো দলই পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মিশর। এর ফলও পায় তারা। ১৯তম মিনিটে অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর পাস থেকে ডি-বক্সের বাইরে বল পেয়ে দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে বেলজিয়ামের জালে বল জড়ান ইমাম আশুর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল তার প্রথম গোল, যা মিশরকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়।
এই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করার কৃতিত্ব গড়ে মিশর। অন্যদিকে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় ইউরোপের দলটি। ৫৩তম মিনিটে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন বেলজিয়ান অধিনায়ক কেভিন ডি ব্রুইনা। তবে তার নেওয়া ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসায় হতাশ হতে হয় বেলজিয়ামকে।
এরপর ম্যাচে পরিবর্তন আনতে রোমেলু লুকাকুকে মাঠে নামান বেলজিয়ামের কোচ। তার উপস্থিতিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
৬৬তম মিনিটে বেলজিয়ামের একটি দ্রুতগতির আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে বিপত্তিতে পড়েন মিশরের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি। গোলমুখে অবস্থান নেওয়া লুকাকুকে ঠেকানোর চেষ্টায় বলটি তার পায়ে লেগে নিজেদের জালেই জড়িয়ে যায়। আত্মঘাতী এই গোলের মাধ্যমে ১-১ সমতায় ফিরে আসে বেলজিয়াম।
মোহাম্মদ হানির এই আত্মঘাতী গোলটি ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের তৃতীয় আত্মঘাতী গোল। সমতায় ফেরার পর উভয় দলই জয়সূচক গোলের জন্য একাধিক চেষ্টা চালায়। তবে সালাহ ও ডি ব্রুইনার নেতৃত্বাধীন দুই দলের কেউই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি।
শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে বেলজিয়াম ও মিশর। ফলে গ্রুপ ‘জি’-এর প্রথম ম্যাচ শেষে উভয় দলের সংগ্রহে এক পয়েন্ট করে যোগ হয়েছে।