ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে স্থাপন করা নতুন দানবাক্স থেকে তৃতীয়বারের মতো টাকা গণনা শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে মাজার প্রাঙ্গণে উন্মুক্তভাবে এ গণনা চলছে।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির সদস্য এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শনিবার সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু হয়েছে। গণনা শেষ হলে পাওয়া অর্থের পরিমাণ সবার সামনে প্রকাশ করা হবে।
এর আগে গত ১২ জুন হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করেন তৎকালীন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। সে সময় মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন ডেগ সিলগালা করার পাশাপাশি নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে নিয়মিত বদলি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ীভাবে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
নতুন দানবাক্স স্থাপনের পর প্রথমবার সেটি খোলা হয় ২২ জুন। ওই দফায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা। এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয়বার দানবাক্স খুলে গণনা করা হলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এ সময় বিভিন্ন দেশের মুদ্রাসহ বেশ কিছু সামগ্রীও পাওয়া যায়।
দ্বিতীয় দফা গণনার ৩৪ দিন পর শনিবার তৃতীয়বারের মতো দানবাক্সটি খোলা হয়েছে। এবার কত টাকা পাওয়া যায়, গণনা শেষ হওয়ার পর তা জানা যাবে।