বেনজীর আহমেদ | ছবি: সংগৃহীত
দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।
তিনি জানান, পুলিশ সদর দফতরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)-এর দুই কর্মকর্তার সহায়তায় বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলো মঙ্গলবারই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে।
দুবাইয়ে গত ১২ জুন গ্রেফতারের পর থেকেই বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করে দুদক। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার (মানি লন্ডারিং) এবং পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় ইতোমধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর তথ্য-প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় আইনি নথি সংযুক্ত করে একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হবে।
গত ১২ জুন দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদ গ্রেফতার হন। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে বিধি ৩০০-এর অধীনে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংসদকে অবহিত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানোর সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশ সরকার নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষা না করে দ্রুত নথিপত্র পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
বেনজীর আহমেদ ২০২৪ সালের ৪ মে সপরিবারে দেশ ত্যাগ করেন। পরে ২০২৫ সালে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হয়।
এর আগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং বাহিনীটির সাতজন সাবেক ও তৎকালীন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের মধ্যে বেনজীর আহমেদও ছিলেন।