বিশ্বকাপ অভিষেকে স্পেনকে রুখে ইতিহাস গড়ল কেপ ভার্দে

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ১৬, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

বিশ্বকাপ অভিষেকে স্পেনকে রুখে ইতিহাস গড়ল কেপ ভার্দে

ফুটবল বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বড় চমক দেখিয়েছে কেপ ভার্দে। টুর্নামেন্টের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের অন্যতম স্মরণীয় ফলাফল তুলে নিয়েছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্রটি।

ম্যাচ শেষে স্পেন শিবিরে ছিল হতাশার আবহ, অন্যদিকে কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা উদযাপন করেন ঐতিহাসিক এই অর্জন। শক্তি, সামর্থ্য এবং পরিসংখ্যানের বিচারে পিছিয়ে থেকেও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে দলটি।

কেপ ভার্দের এই সাফল্যের কেন্দ্রে ছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ফুটবলার পুরো ম্যাচজুড়ে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে স্পেনের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেন। ম্যাচে তিনি মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন, যার কয়েকটি ছিল নিশ্চিত গোল বাঁচানোর মতো। শেষ বাঁশি বাজার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি, তবে তা ছিল স্বপ্নপূরণের আনন্দে।

ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্পেনের। কিন্তু কেপ ভার্দের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ এবং ভোজিনিয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে গোলের দেখা পায়নি ইউরোপের দলটি। প্রথমার্ধে ফেরান তোরেসের শক্তিশালী শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপর ফিরতি বলে মিকেল ওইয়ারসাবালের হেডও অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন ভোজিনিয়া।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে তোরেস ও আয়মেরিক লাপোর্তের আরও দুটি সম্ভাবনাময় সুযোগ নষ্ট করে দেন কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পরও স্পেনের আক্রমণ অব্যাহত থাকে। গোলের খোঁজে ৭১তম মিনিটে মাঠে নামানো হয় তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে। চোট কাটিয়ে ফেরা ইয়ামালের জন্য এটি ছিল বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচ। ১৮ বছর ৩৪২ দিন বয়সে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন তিনি।

অন্যদিকে ৪০ বছর ২২ দিন বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক হয় ভোজিনিয়ার। ফলে একই ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে বয়সের ব্যবধান দাঁড়ায় ২১ বছর ৪৫ দিন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন রেকর্ড হিসেবে জায়গা করে নেয়।

তবে ইয়ামালকে নামিয়েও কাঙ্ক্ষিত গোল আদায় করতে পারেনি স্পেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হলে উৎসবে মেতে ওঠে কেপ ভার্দে। শক্তিশালী স্পেনকে রুখে দেওয়ার এই ঐতিহাসিক অর্জনের মূল নায়ক হয়ে ওঠেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া, যার অসাধারণ পারফরম্যান্স দলকে এনে দেয় মূল্যবান এক পয়েন্ট।

Link copied!