চিকিৎসক ধীপ্রার মৃত্যু

ইয়ার্কি ডটকমের সম্পাদকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে সিআইডি

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ১৬, ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

ইয়ার্কি ডটকমের সম্পাদকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে সিআইডি

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ধানমন্ডিতে চিকিৎসক ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অবহেলাজনিত মৃত্যু, নির্যাতন এবং পোস্টমর্টেম ছাড়াই দাফনের মাধ্যমে আলামত গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে দণ্ডবিধির ৩০৪(ক), ১৯৩, ১৯৭, ২০১, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় মামলার আবেদন করেন নিহতের স্বজন মো. মশিউর রহমান শাহ। আদালত আবেদন গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলায় চারজনকে আসামি এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন নিহতের শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা, স্বামী ডা. রহমত রশীদ, শ্বশুর ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ (বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান) এবং ইয়ার্কি ডট কমের সম্পাদক সিমু নাসের।

মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সহপাঠী ডা. রহমত রশীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রা বিয়ে করেন এবং তাদের একটি দুই বছর বয়সী সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে, যার ফলে তিনি তীব্র বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন। সন্তান জন্মের পর তিনি পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশন, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসেও ভুগছিলেন বলে দাবি করা হয়।

আরও বলা হয়, চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যায় অবহেলা করা হয় এবং এফসিপিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও বাধা দেওয়া হয়। মৃত্যুর আগে তিনি ‘Female Doctors in Bangladesh’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে পারিবারিক নির্যাতনের বিষয়ে পোস্ট করেছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২ জুন থেকে তিন দিন তাকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ রাখা হয় এবং খাবার দেওয়া হয়নি, পাশাপাশি তার সন্তানকেও দেখতে দেওয়া হয়নি। ৪ জুন মায়ের উপস্থিতিতে কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে বারডেম হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ ও দ্রুত দাফনের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। আদালতে আইনজীবী ফরহাদ হোসাইন জানান, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।

Link copied!