জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামে সকাল ও সন্ধ্যায় কনকনে শীতে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। টানা তিন দিন ধরে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে অবস্থান করছে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। তথ্যটি নিশ্চিত করেন রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মঙ্গলবার তা নেমে এসেছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় জেলার বিভিন্ন এলাকা ঢেকে থাকে। শীতের কারণে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে গেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
শীতের প্রভাবে জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি ও জ্বরের উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে।
এদিকে শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ। খোলা পরিবেশে হিমেল বাতাসের মধ্যে রাত কাটানো তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
শীত মোকাবিলায় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন সরকার জানান, জেলার নয়টি উপজেলায় এ পর্যন্ত ২৭ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে শীত বাড়ায় গ্রামাঞ্চলে লেপ-তোশকের দোকানগুলোতে ধুনকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। একই সঙ্গে গরম কাপড়ের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।