জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন শর্ত আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘ভিসা বন্ড’ নীতির আওতায় এখন থেকে বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও দেশত্যাগ করতে পারবেন কেবল তিনটি নির্ধারিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে।
নির্ধারিত বিমানবন্দর তিনটি হলো—বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওয়াশিংটন ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এসব বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে তা ভিসা বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এর ফলে ভিসা বন্ডের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গত ৬ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত দেশগুলোর একটি হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে। এতে ভিসা বন্ড প্রযোজ্য দেশের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ তালিকায় বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশ যুক্ত করা হয়েছে। এর আগে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে সাতটি দেশকে এই নীতির আওতায় আনা হয়েছিল। ফলে মঙ্গলবার পর্যন্ত তালিকাভুক্ত দেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮টি।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত অধিকাংশ দেশই আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের পাশাপাশি তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল, উগান্ডাসহ আরও কয়েকটি দেশ। দেশভেদে এই নীতির কার্যকারিতা শুরুর সময় ভিন্ন হতে পারে।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা যদি ব্যবসা বা পর্যটন ভিসার জন্য যোগ্য হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের সময় তাদের ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সর্বোচ্চ এই অঙ্ক প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও সাক্ষাৎকারের মূল্যায়নের ভিত্তিতে কনস্যুলার কর্মকর্তা বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীদের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নির্ধারিত অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্ড প্রদানে সম্মতি জানাতে হবে। তবে কনস্যুলার কর্মকর্তার নির্দেশনা ছাড়া আগাম কোনো অর্থ জমা না দিতে সতর্ক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভিসা বন্ড নীতি গত আগস্টে পরীক্ষামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম চালু করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থানের হার বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মসংক্রান্ত বিভিন্ন মেয়াদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দিয়ে থাকে। নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে তা ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য হয়।
নতুন এই নিয়মের ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।