প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্নফাঁস, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার ও নানা ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ তুলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন একদল নিয়োগপ্রত্যাশী।

আজ রোববার সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান ফটকে এ আন্দোলন শুরু হয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা এবং পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— ‘প্রশ্ন ফাঁস চলবে না’, ‘মেধাবীরা বঞ্চিত কেন, ডিপিই জবাব চাই’, ‘পরিশ্রমের মর্যাদা নেই’। এ সময় তারা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—
১. প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করতে হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা নিতে হবে।
২. সকল চাকরির পরীক্ষা ঢাকায় নিতে হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ডিভাইস চেকার ও নেটওয়ার্ক জ্যামার রাখতে হবে।
৩. একটি স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করতে হবে এবং তার আওতায় সকল পরীক্ষা নিতে হবে। একই দিনে একাধিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে না।
৪. যেসব প্রতিষ্ঠানে বিগত বছরে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের রেকর্ড আছে, তাদেরকে কোনোভাবেই প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
৫. যদি কোনো কারণে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার তথ্য প্রমাণিত হলে, এর সঙ্গে জড়িত সকলকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং প্রশ্ন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে স্বেচ্ছায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি প্রার্থী অংশ নেন। তবে পরীক্ষার কয়েক দিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, জেলা পর্যায়ে পাঠানো প্রশ্নপত্র থেকে একটি চক্র কিছু প্রশ্ন সংগ্রহ করে ফাঁস করেছে।

এ ছাড়া ‘ডিভাইস পার্টি’ নামে একটি চক্র পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষার হলে ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরবরাহ করে উত্তর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গাইবান্ধা, নওগাঁ, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় শতাধিক পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় পুলিশের তৎপরতার ঘাটতির কারণে জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে এবং কয়েকজন কক্ষ পরিদর্শকও এতে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার দুই ধাপে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ১০ হাজার ২১৯টি পদের বিপরীতে আবেদন করেন ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন করেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১ জন। পরীক্ষায় উপস্থিত ও অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর চূড়ান্ত সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করেনি অধিদপ্তর।

Link copied!