আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে হাইকোর্ট আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরো রোজার মাসে সারাদেশের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর সব স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিবকে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন।
একই সঙ্গে হাইকোর্ট মাদ্রাসা ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত পৃথক প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়েও রুল জারি করেছেন।
আজ (রোববার) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসান-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।।
রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইলিয়াস আলী মণ্ডল, সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা। এদের সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মো. বায়েজিদ।
এ বিষয়ে প্রথমে গত ৫ জানুয়ারি রিটকারী আইনজীবী ইলিয়াস আলী মণ্ডল সরকারকে আইনি নোটিশ দেন। নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিক মুসলিম, এবং স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়ে আসছে। এটি আইন, প্রথা ও নীতি অনুযায়ী। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না। এছাড়া অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী, আইন বলতে বাংলাদেশে আইনসম্মত যে কোনো প্রথা ও রীতি বোঝায়। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে ক্লাস ও যাতায়াতের কারণে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টভোগ করবেন। এটি ধর্মীয় আচারের বাস্তব চর্চার বাধা সৃষ্টি করে। পাশাপাশি রমজান মাসে স্কুল খোলা থাকলে শহরাঞ্চলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, যা নগরবাসীর জন্য দুর্ভোগের কারণ। এই যুক্তিতে রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপের আবেদন করা হয়।
নোটিশের জবাব না পেয়ে ২০ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।