ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
ঢাকা-৮ নির্বাচনী আসনে হেরে যাওয়া এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আজ (রোববার) নির্বাচন কমিশনে ভোট পুনঃগণনার আবেদন করেছেন।
আবেদনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উল্লেখ করেন, এনসিপির মনোনীত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আমি ঢাকা-৮ আসনে শাপলা কলি মার্কায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। একই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু সেখানে তিনি এবং তার নেতাকর্মী, এজেন্ট ও পরিবারের সদস্যরা ভোট রিগিং, প্রভাব বিস্তার, ফলাফল আটকে রাখা, বাতিল হওয়া ভোট গণনাভুক্ত করাসহ নানাবিধ নির্বাচনী অনিয়মের আশ্রয় নেন। এক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইজিং অফিসার এবং আসনের রিটার্নিং অফিসার নির্বাচনী অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন।
১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ এবং ২০০৮ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালাসহ নির্বাচন সংক্রান্ত আইন-কানুনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটিয়ে অবৈধভাবে রিটার্নিং অফিসার মির্জা আব্বাসকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি এ দরখাস্তের মাধ্যমে কারচুপি ও অনিয়মের বিষয় নির্বাচন কমিশনের নজরে আনছি এবং আইন ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
আবেদনপত্রে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কিছু কেন্দ্রে অনিয়ম ও কারচুপির বিস্তারিতও উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, সার্বিক বিবেচনায় ঢাকা-৮ আসনে অনিয়ম, কারচুপি ও বেআইনি প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ফলাফল অনুকূলে নেয়ার ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া, দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া এবং মির্জা আব্বাস, তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ও তার সন্ত্রাসী কর্মী বাহিনীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সেইসঙ্গে ঢাকা-৮ আসনের ভোট পুনঃগণনার দাবি জানাচ্ছি এবং আইনানুগভাবে বাতিল ঘোষিত ভোট ধানের শীষের ভোট থেকে বাদ দিয়ে নতুন করে ফলাফল প্রকাশের অনুরোধ করছি। পুনঃগণনার আগ পর্যন্ত ঢাকা-৮ আসনের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন না করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানাচ্ছি এবং আইনানুগ কর্তব্য পালনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ৫৯ হাজার ৩৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট পেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখিয়েছেন। ভোট ব্যবধান মাত্র ৫ হাজার ২০৯।