ফাইল ছবি
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরে আদালত অবমাননার অভিযোগে বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানকে আগামী ৮ ডিসেম্বর আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রোববার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
এর আগে, গত ২৬ নভেম্বর ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। তিনি ২৩ নভেম্বর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ‘মুক্তবাক: রাজনীতির তর্ক-বিতর্ক’ টকশোতে অতিথি ছিলেন। টকশোর এক পর্যায়ে শেখ হাসিনার রায় প্রসঙ্গ আসতেই ফজলুর রহমান বিভিন্ন মন্তব্য করেন। ৪৯ মিনিটের টকশোটি পেনড্রাইভের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালেও ফজলুর রহমানের বক্তব্যের কিছু অংশ বাজিয়ে শোনানো হয়।
ভিডিওতে ফজলুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি প্রথম দিন থেকেই বলছি এই কোর্ট মানি না।’ তখন উপস্থাপক বলেন, ‘তাহলে কি আমরা শুনতে পাইনি। মিডিয়া কি জানতে পারেনি।’
ফজলুর রহমান বলেন, ‘সবাই জানে। জানবে না কেন। আমার ইউটিউব শোনেন। আমি এই কোর্ট মানি না। এই কোর্টের বিচার মানি না। ইউটিউবে বলেছি, টকশোতে বলেছি। যদি না বলে থাকি এখন বললে আমার ভুল, আমি মাফ চাইবো। প্রতিদিন বলছি এই বিচার আমি মানি না। এই ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচার হতে পারে না। এই কোর্টের গঠনপ্রক্রিয়া বলে এই কোর্টে বিচার হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, প্রসিকিউশনের সবাই শিবির সমর্থিত।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ট্রাইব্যুনালকে জানান, ফজলুর রহমান আইন না বুঝে এসব মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও জানান, ট্রাইব্যুনালে তার আরেকটি পরিচয় হলো বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী। এছাড়া জুলাই বিপ্লব নিয়ে মন্তব্য করায় বিএনপি তাকে আগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছিল।
আদালতকে তামিম জানান, ফজলুর রহমান দাবি করেছেন যে তিনি ট্রাইব্যুনালকে মানেন না, কারণ এটি ১৯৭১ সালের রাজাকারদের বিচার করার জন্য গঠিত হয়েছিল।
এই মন্তব্যের জবাবে ট্রাইব্যুনাল জানায়, ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণীত হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। এ আইনের অধীনে ১৯৭৩ সালের আগে ও পরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা যায়। এছাড়া প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার পর ট্রাইব্যুনাল বিষয়টিকে গুরুতর বলে মন্তব্য করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন প্যানেল ফজলুর রহমানের ব্যাখ্যা শুনতে আগামী ৮ ডিসেম্বর হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।