গুজব ও ভুয়া কনটেন্ট ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ৯, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম

গুজব ও ভুয়া কনটেন্ট ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে নতুন আইনগত কাঠামো গড়ে তুলতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার জাতীয় সংসদে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা ও অপব্যবহারের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

মন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘সাইবার স্পেস’-এর সংজ্ঞা নতুনভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গুজব, মানহানি, অপতথ্য এবং বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও শাস্তির বিধান আরও কঠোর করা হবে।

তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপমানজনক ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করার জন্য নতুন বিধান যুক্ত করা হবে।

বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে দীর্ঘ সময় লাগছে বা কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন আইনে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কনটেন্ট অপসারণ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, রিপোর্ট করা কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) আরও ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোর অনীহা দূর করতে কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হবে, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষতিকর কনটেন্ট সরাতে তারা বাধ্য থাকে।

এ ছাড়া ১৮৬৭ সালের ঔপনিবেশিক যুগের জুয়া প্রতিরোধ আইন আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। নতুন আইনে অনলাইন ও অফলাইন জুয়া এবং বেটিং কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ সুবিধা ও ল্যাবরেটরি সক্ষমতায় আরও শক্তিশালী করার প্রস্তাব রয়েছে।

সব মিলিয়ে সরকার একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, এসব সংস্কার কার্যকর হলে সাইবার নিরাপত্তা, সামাজিক শৃঙ্খলা এবং অপরাধ দমন ব্যবস্থায় বড় ধরনের অগ্রগতি আসবে।

Link copied!