জুন ৮, ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত এক যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি ও ঘুষ দাবির অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী মরদেহ নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ করলে অভিযুক্ত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সোমবার বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠার পর উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নিহত জোবায়ের (১৮) পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন রাতে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে এনায়েতনগরের ভাঙা সেতু এলাকায় কয়েকজন ছিনতাইকারী তার গতিরোধ করে। এ সময় ছিনতাইয়ের প্রতিবাদ করলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই থানায় মামলা করতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি মামলা নথিভুক্ত করতে ঘুষ দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা।
জোবায়েরের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রোববার রাতে মরদেহ নিয়ে শত শত মানুষ বন্দর থানার সামনে জড়ো হন। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত দাবি করেন।
স্থানীয়দের একজন অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের জন্য নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় গেলে ১০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় তখন অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়। পরে তারা থানার সামনে থেকে সরে যান।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।