এপ্রিল ৪, ২০২৫, ০৫:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় পাস হওয়ার পর উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায়ও সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ভোটে ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। দীর্ঘ বিতর্কের পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ১২৮-৯৫ ভোটে বিলটি পার্লামেন্টে পাস হয়।
রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পরই বিলটি আইনে পরিণত হবে। তবে বিরোধীদল কংগ্রেস এত সহজে হার মানছে না, তারা বিলটি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও দ্য হিন্দু এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এ নিয়ে কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেছেন, “আমরা শিগগিরই ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল-২০২৫ এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে যাবো।”
বর্তমান আইনে ওয়াকফ প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের আয়ের ৭ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে ওয়াকফ বোর্ডকে দেওয়া লাগতো। নতুন সংশোধনীতে তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
কোনো ওয়াকফ প্রতিষ্ঠান এক লাখের বেশি আয় করলে তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া কোনো অডিটর দিয়ে যাচাই করানো লাগবে।
একটি কেন্দ্রীভূত পোর্টাল ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনাকে স্বয়ংক্রিয় করবে, দক্ষতা এবং স্বচ্ছতার উন্নতি ঘটাবে।
সংশোধিত এ বিলে অন্তত ৫ বছর ধর্মকর্ম করেছেন এমন মুসলিমদেরই তাদের সম্পত্তি ওয়াকফ করার সুযোগ দিতে বলা হয়েছে। ২০১৩-র আগেও এমনই নিয়ম ছিল।
তবে কেউ সম্পত্তি ওয়াকফ করার আগে অবশ্যই উত্তরাধিকার, বিশেষ করে নারীদের প্রাপ্য মিটিয়ে দিতে হবে। বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারী ও এতিমদের সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা যেসব সম্পত্তি ওয়াকফ সম্পত্তি বলে দাবি করা হয়, কালেক্টরের উপরের পদে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে ওইসব সম্পত্তি বিষয়ে তদন্ত করা হবে।
সংশোধিত বিলে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডগুলোতে অমুসলিম সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করারও প্রস্তাব করা হয়েছে।
এসব প্রস্তাবের অনেকগুলোরই বিরোধিতা করছে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন। তাদের ভাষ্য, ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্তি একেবারেই বেমানান, কেননা অমুসলিম সদস্যরা মুসলমানদের রীতিনীতির ব্যাপারে খুব বেশি জানবেন না এটাই স্বাভাবিক।
তারপর ৫ বছর ধর্মকর্ম পালন করেছে, এই সার্টিফিকেট কে দেবে? পাশাপাশি ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও হিসাব যাচাইয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলছে তারা।
তবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার বলছে, তারা মুসলিমদের ধর্ম পালন বা ওয়াকফ সম্পত্তিতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না, কেবল ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে চাইছে।
আগের দিন লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্য থাকবে না বলে বিরোধীদের আশ্বস্ত করতে চাইলেও বৃহস্পতিবার সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, ওয়াকফ বোর্ড বিধিবদ্ধ সংস্থা হওয়ায় সেখানে সব ধর্মের প্রতিনিধিদেরই যাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।
তিনি বলেন, “ওয়াকফ বোর্ড একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা। এমন সংস্থায় কেবল মুসলিমরা থাকবেন— এটা কীভাবে হয়? ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে সব ধর্মের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত।”
তবে তিনি আশ্বস্ত করে জানান, ২২ সদস্যের বোর্ডে সর্বোচ্চ ৪ জন অমুসলিম সদস্য থাকতে পারবেন।
“ফলে মুসলিমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবেন, একথা নিশ্চিত,” বলেন মন্ত্রী।
রাজ্যসভায় ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল নিয়ে চলা দীর্ঘ বিতর্কের পর জবাব দিতে উঠে রিজিজু বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “অনেকে বলছেন, আমরা এই বিলের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ভয় দেখাচ্ছি। কিন্তু ভয় আমরা দেখাচ্ছি না, বরং ভয় আপনারাই দেখাচ্ছেন। সিএএ-এর সময়ও ভয় দেখানো হয়েছিল— বলা হয়েছিল নাগরিকত্ব চলে যাবে। বাস্তবে তা হয়নি। এবারও একই রকম ভয় ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু বিল পাস হওয়ার পর দেখা যাবে, আগামীকাল থেকেই এটি কীভাবে স্বাগত জানানো হয়।”