ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন, যার তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭% শুল্ক বসিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে আগে গড়ে শুল্ক ছিল ১৫%।
বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই নতুন শুল্কের ঘোষণা দেন।
তিনি প্রকাশিত তালিকায় বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত শুল্কের পরিমাণ তুলে ধরেন।
ট্রাম্পের দাবি, এই `রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ` বা পাল্টা শুল্ক ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে "আবার সম্পদশালী" করবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রায় ১০০টি দেশের ওপর আরোপিত এই শুল্ক বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
অনেক দেশ এই পদক্ষেপকে `বাণিজ্য যুদ্ধ` হিসেবে দেখছে, এবং অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে এতে কেউ-ই জয়ী হবে না।
তবে ট্রাম্প এই দিনটিকে যুক্তরাষ্ট্রের "অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস" হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বলেন, "আমরা একটি স্বাধীন ও সমৃদ্ধ জাতি হতে যাচ্ছি। একদিন আপনারা বলবেন, `তিনি (ট্রাম্প) সঠিক ছিলেন।`"
দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান
নতুন শুল্ক হার অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শুল্ক হার ভোগ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর ওপর ১০% থেকে ৪৮% পর্যন্ত শুল্ক বসিয়েছে।
এশিয়ার দেশগুলোর ওপর আরোপিত শুল্কের সংক্ষিপ্ত তালিকা:
চীন: ৩৪%
ভিয়েতনাম: ৪৬%
তাইওয়ান: ৩২%
ইন্দোনেশিয়া: ৩২%
জাপান: ২৪%
দক্ষিণ কোরিয়া: ২৫%
থাইল্যান্ড: ৩৬%
মালয়েশিয়া: ২৪%
কম্বোডিয়া: ৪৯%
বাংলাদেশ: ৩৭%
ভারত: ২৬%
পাকিস্তান: ২৯%
সিঙ্গাপুর: ১০%
নেপাল: ১০%
ফিলিপাইন: ১৭%
শ্রীলঙ্কা: ৪৪%
মিয়ানমার: ৪৪%
লাওস: ৪৮%
কেন ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিলেন?
ট্রাম্প দাবি করেছেন যে অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে `বাজেভাবে` ব্যবহার করেছে এবং আমেরিকান পণ্যের ওপর অসম শুল্ক আরোপ করেছে, যা তিনি `প্রতারণার` সঙ্গে তুলনা করেন। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে।
তবে ট্রাম্প বলেন, "আমাদের আরোপিত শুল্ক অন্যদের শুল্কের প্রায় অর্ধেক। পুরোপুরি পাল্টা শুল্ক আরোপ করলে অনেক দেশের জন্য কঠিন হয়ে যেত, যা আমি করতে চাইনি।"
তিনি বারবার উল্লেখ করেন, "আজকের দিনটি আমেরিকান শিল্পের পুনর্জন্মের দিন এবং আজ আমেরিকা পুনরায় সম্পদশালী হলো।"
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যের অবস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব দ্য ইউনাইটেড স্টেট ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (USTR) জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মোট বাণিজ্য ছিল আনুমানিক ১০.৬ বিলিয়ন ডলার।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি: ২.২ বিলিয়ন ডলার ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি: ৮.৫ বিলিয়ন ডলার
নতুন শুল্ক নীতির ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা নিয়ে ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।