সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২, ১২:৫৫ পিএম
ইউক্রেনে হামলা জোরদার করতে রাশিয়া দেশটিতে সেনা সংখ্যা বাড়াচ্ছে। এ জন্য রাশিয়ার তাদের সেনাবাহিনীতে রিজার্ভ সেনাদের ডেকে পাঠাচ্ছে। এর প্রতিবাদে মস্কোসহ বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এই বিক্ষোভ মিছিল থেকে এরইমধ্যে শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে একটি মানবাধিকার গ্রুপ জানিয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধে রসদ ও সরঞ্জাম সরবরাহে ব্যর্থতার অভিযোগে রাশিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। জেনারেল দিমিত্রি বুলগাকোভকে নতুন দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ওভিডি-ইনফো নামের মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার রাশিয়ার ৩২টি শহরে ৭২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। ইউক্রেনে যুদ্ধে যোগ দিতে তিন লাখ সৈন্য সমাবেশ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এজন্য রিজার্ভ সৈন্যদের ডেকে পাঠানো হয়েছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে যাদের সামরিক প্রশিক্ষণ আছে তাদের রিজার্ভ সেনা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এছাড়া রিজার্ভ তালিকায় সাবেক সেনারাও রয়েছেন। ধারণা করা হয়, রাশিয়া তাদের প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার নিয়মিত সেনা ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য মোতায়েন করেছে।
রাশিয়ার আইন অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া সমাবেশ করা নিষিদ্ধ। এরপরেও রাশিয়ার বিভিন্ন শহর জুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ চলছে। এ সপ্তাহের শুরুর দিকে বিক্ষোভ সমাবেশ করার কারণে এক হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেন্ট পিটার্গবার্গে একজন ব্যক্তি সাংবাদিকদের বলেন, পুতিনের জন্য আমি যুদ্ধ করতে যেতে চাই না।
শনিবার যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই সময় তাদের কারও কারও হাতে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কাগজ দেওয়া হয়েছিল বলে শোনা যাচ্ছে। সেই সময় তাঁদের আটক করে রাখে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ক্রেমলিন এর আগে জানিয়েছিল, এটা আইনের মধ্যে থেকেই করা হচ্ছে।
মস্কো নতুন যে আইন করেছে, তাতে সেনাবাহিনীতে একবার নাম লেখানোর পর পালিয়ে গেলে বা দায়িত্ব পালন না করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
শনিবার একটি ডিক্রি জারি করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন, যেখানে বলা হয়েছে, কোনো সৈন্য যদি আত্মসমর্পণ করে, সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে যায় অথবা যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে তার ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। সেই সঙ্গে বিদেশি কোনো নাগরিক যদি অন্তত এক বছরের জন্য রাশিয়ান সৈন্যবাহিনীতে কাজ করার জন্য নাম লেখায়, তাহলে তাকে রাশিয়ার নাগরিকত্ব দেওয়ার একটি আইনেরও স্বাক্ষর করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন।
এদিকে জেনারেল দিমিত্রি বুলগাকোভকে সরিয়ে রাশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থা তদারকির নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কর্নেল জেনারেল মিখাইল মিযিনস্তভকে, যিনি মারিওপোলে রাশিয়ান বাহিনীর নিষ্ঠুর অবরোধ পরিচালনা করেছিলেন। ২০০৮ সাল থেকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সরবরাহ ব্যবস্থার দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল বুলগাকোভ। ২০১৫ সালে সিরিয়ায় রাশিয়ার সৈন্যবাহিনী মোতায়েন করার পর থেকে তিনি সেখানে রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা তদারকি করতেন। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি মস্কোয় অনেকটা কোণঠাঁসা হয়ে পড়েছিলেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর যে সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাপক বিপর্যয় ঘটেছে, সেজন্য অনেকে তাঁকে দায়ী করেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নতুন গোলাবারুদ এবং ড্রোনের জন্য দীর্ঘদিনের মিত্র উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের সহায়তা চাইতে বাধ্য হয়েছে মস্কো। রাশিয়ায় নতুন যোগ দেওয়া সৈন্যদের হাতে বাতিল রাইফেল তুলে দেওয়া হচ্ছে, এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
জেনারেল মিযিনস্তভের নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে রাশিয়ার কট্টরপন্থীরা। অনেক ইউক্রেনিয়ান এই জেনারেল মিযিনস্তভকে 'মারিওপোলের কসাই' বলে বর্ণনা করে থাকেন।
সূত্র: বিবিসি