ডিজিটাল আইনে চলমান মামলা বাতিল হবে না: অ্যাটর্নি জেনারেল

আদালত প্রতিবেদক

আগস্ট ৭, ২০২৩, ০৪:৩৯ পিএম

ডিজিটাল আইনে চলমান মামলা বাতিল হবে না: অ্যাটর্নি জেনারেল

প্রায় পাঁচ বছর আগে কার্যকর হওয়া বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা Digital Security Act-2018 অবশেষে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর পরিবর্তে সাইবার নিরাপত্তা আইন নামে একটি নতুন আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদনও দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের (কেবিনেট) এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইসের সিদ্ধান্ত হলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে চলমান মামলগুলো বাতিল হবে না।   মামলাগুলোর বিচার আগের আইনেই চলবে।

সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “যখন কোন আইন বাতিল বা পরিবর্তন করা হয় সেখানে একটা সেভিং ক্লোজ দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, যে মামলাগুলো চলমান আছে সেই মামলাগুলোর ক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে এই আইনটা বিলুপ্ত হয়নি।” আইন পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে তিনি ইতিবাচক বলেও উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, প্রিন্ট মিডিয়া বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে বর্ণবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, চরমপন্থা, সন্ত্রাসী প্রচারণা এবং ধর্মীয় বা জাতিগত সংখ্যালঘুদের প্রতি ঘৃণার বিস্তার বন্ধ করার জন্য ৮ অক্টোবর, ২০১৮ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন গৃহীত হয়েছিল। একই বছরের ৮ অক্টোবর থেকে আইনটি কার্যকর হয়। 

আইনটি পাশ হওয়ার পর থেকে বিশেষ করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপব্যবহারের জন্য ক্রমবর্ধমান সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে।

আইনটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োগ হয়েছে ভিন্নমতের রাজনীতিক, সাংবাদিক ও শিক্ষকদের ক্ষেত্রে। সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রেও এ আইনের আনুপাতিক ব্যবহার বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তচিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার সমুন্নত রাখা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সর্বোপরি মানুষের মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিতে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থাসহ সংশ্লিষ্টরা  ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলে র্দীঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল।

বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সমালোচনা করেছে। এই আইনের বেশ কয়েকটি ধারা পরিবর্তনের জন্য দেশের সাংবাদিক সমাজও সরকারের কাছে আহবান জানিয়েছে আসছিল।

তাছাড়া,সম্প্রতি ঢাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল  ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়ার নেতৃত্বে দেশটির প্রতিনিধি দল  ঢাকা সফর শেষে দেশে ফিরে যাওয়ার অগে সংবাদ সম্মেলনে ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাতের সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের প্রস্তাব দিয়ে যান।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক গত ১ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পর্যালোচনা করে গত বছরের জুন মাসে একটি সুপারিশমালা বাংলাদেশ সরকারের কাছে পেশ করে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক চলতি বছর বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হবে না, সংশোধন হবে। তিনি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে আইনটি সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় সাইবার নিরাপত্তা আইন নামে একটি নতুন আইন চালু হতে যাচ্ছে। আইনটি চালু হলেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

Link copied!