রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিলেন মা-বাবা-বোন

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ২, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিলেন মা-বাবা-বোন

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভিন বেগম এবং বোন রাইসা আক্তার।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রামিসার চাচা এ কে এম নজরুল ইসলাম ও তার চাচিও সাক্ষ্য দেন।

সাক্ষ্যগ্রহণকালে হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী পরিস্থিতির বর্ণনা দেন সাক্ষীরা। রামিসার মা আদালতে জানান, আসামি স্বপ্নার কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও তিনি দরজা খোলেননি। বরং প্রধান আসামি ও তার স্বামী সোহেল রানাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এর আগে সকালে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হন রামিসার বাবা। এ সময় তিনি মেয়ে হত্যার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং ন্যায়বিচার দাবি করেন।

সকাল পৌনে ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের আদালতে তোলা হয়।

এর আগে সোমবার দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৪ মে আদালত পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। তদন্তে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার জন্য রামিসাকে খুঁজতে শুরু করেন তার মা।

এক পর্যায়ে আসামির ঘরের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল দেখতে পান তিনি। পরে ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারের পর ২০ মে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন।

Link copied!