২০,৬৭১ জন পাচ্ছেন কৃষক কার্ড, বছরে পাবেন ২৫০০ টাকা

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

২০,৬৭১ জন পাচ্ছেন কৃষক কার্ড, বছরে পাবেন ২৫০০ টাকা

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ | ছবি: সংগৃহীত

দেশের ২০ হাজার ৬৭১ জন ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দিতে যাচ্ছে সরকার। এই কার্ডের আওতায় বছরে আড়াই হাজার টাকা নগদ সহায়তার পাশাপাশি আরও একাধিক সুবিধা পাবেন তারা।

পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধনের বিষয়ে রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ১১ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২২ হাজার ০৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন কৃষক (৫ শতকের কম জমির মালিক) ২,২৪৬ জন; প্রান্তিক কৃষক (৫-৪৯ শতক জমির মালিক) ৯,৪৫৮ জন; ক্ষুদ্র কৃষক (৫০-২৪৯ শতক) ৮,৯৬৭ জন; মাঝারি কৃষক (২৫০-৭৪৯ শতক) ১,৩০৩ জন এবং বড় কৃষক (৭৫০ শতকের বেশি জমির মালিক) ৯১ জন রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ‍‍`তাদের ফসল উৎপাদনকারী কৃষক ২১,১৪১ জন, মৎস্যজীবী ৬৬ জন, প্রাণিসম্পদ খামারি ৮৫৫ জন, লবণ চাষী ০৩ জন। মোট বাছাইকৃত ২২,০৬৫ জন কৃষকের মধ্যে কেবল প্রণোদনার জন্য নির্বাচিত ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের সংখ্যা ২০,৬৭১ জন, যা মোট কৃষকের ১৩.৭%‍‍`

প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ।

তিনি বলেন, ‍‍`ওই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা প্রণোদনা ও সেবা নেবেন; সংশ্লিষ্ট ডিলারের সরবরাহ করা মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ, মৎস্য/প্রাণি খাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন।‍‍`

প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এই কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে ১৫টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‍‍`পাইলাটিংয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরে সারাদেশে এই কার্ড বিতরণ ও ডাটাবেজ তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।‍‍`

তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। তবে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে কেবল ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের।

তিনি আরও বলেন, ‍‍`এই কৃষক কার্ড শতভাগ রাজনৈতিক মুক্ত। অতীতে যা হয়েছে, তা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই‍‍`

পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

প্রাক-পাইলট পর্যায়ে নির্বাচিত জেলা ও কৃষি ব্লক হিসেবে রয়েছে—পঞ্চগড় সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহ শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুর নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লক, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ি গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপচা ব্লক, মৌলভীবাজার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড় বোদা উপজেলার পাঁচপির ব্লক এবং জামালপুর ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লক।

উদ্বোধনের দিন কুমিল্লার অরণ্যপুর ব্লক বাদে বাকি নয়টি ব্লকে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। কুমিল্লার ব্লকে ১৭ এপ্রিল বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

কার্ডের আওতায় নগদ সহায়তার পাশাপাশি কৃষকরা আরও যেসব সুবিধা পাবেন তার মধ্যে রয়েছে—ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ, ন্যায্য মূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বীমা সুবিধা এবং ন্যায্য মূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুযোগ।

Link copied!