৩৭৮১৪ পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০১:০৩ পিএম

৩৭৮১৪ পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের নারী প্রধানদের সহায়তা দিতে সরকার ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান করছে।

বুধবার সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে নারী ও শিশুরা হবে টেকসই উন্নয়নের সমঅংশীদার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। তিনি উল্লেখ করেন, নারী ও শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে—গরিব ও অসচ্ছল নারীদের জন্য ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রম, গর্ভবতী মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিতে সহায়তা কর্মসূচি, নারীদের আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্রঋণ এবং নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য বিপণনে জয়িতা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে বিভিন্ন আইন এবং বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল টোল ফ্রি হেল্প লাইন, ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেল, ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরী, ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার, মহিলা, শিশু ও কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এ কর্মসূচিতে আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো, প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা অন্তর্ভুক্ত করা এবং টিকাদান ও প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানসম্মত প্রশিক্ষণ, নগদ সহায়তার সঙ্গে জীবিকা সহায়তা যুক্ত করে, শহর ও গ্রামাঞ্চলের জন্য পৃথক গ্রাজুয়েশনভিত্তিক মডেল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে নারী উদ্যোক্তা বৃদ্ধি ও বিপণন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার কথাও জানান তিনি।

তিনি বলেন, এরইমধ্যে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলা এবং ৩টি সিটি কর্পোরেশনে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের নারী প্রধানকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুরা দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। তিনি জানান, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুদের সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ, জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা, শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং অটিজম সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় বর্তমানে ২টি আবাসিক কেন্দ্রে ১৫১ জন শিশুকে থাকা, খাবার, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং ৯টি আউটরিচ স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। কর্মজীবী মায়েদের সহায়তায় ৬ মাস থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ৬৪টি দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব দিবাযত্ন কেন্দ্রে সুষম খাবার প্রদান, প্রাক-স্কুল শিক্ষা প্রদান, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা করা হয় এবং ইনডোর খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া কর্মস্থলে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’ চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষায় সরকার সচেষ্ট রয়েছে। নদীভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি ও জরুরি সংস্কার কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

Link copied!