রংপুরে ৪ খুন: সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি মেলেনি

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

রংপুরে ৪ খুন: সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি মেলেনি

ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। পরীক্ষায় তাদের শরীরে মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে চার হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিরা ইয়াবা সেবন করেছিলেন—পুলিশের তদন্তে উঠে আসা সেই দাবিকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

রোববার দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের একটি দল।

আসামিদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারাগারেই নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়। এর আগে ডোপ টেস্টের জন্য টেকনোলজিস্ট পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কাছে অনুরোধ জানায় ডিবি। অনুমতি পাওয়ার পর রংপুর মেডিকেল কলেজের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে যায় ডিবির দল।

রংপুর মেডিকেল কলেজের টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, ডোপ টেস্টের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ইউরিন স্পেসিমেন বা প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে নমুনাগুলো ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে তাদের মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আসামিদের ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়। টেকনোলজিস্টকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে গিয়ে তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মাদক সেবনের প্রমাণ মেলেনি।

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা, ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। পুলিশের দাবি, ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলায় এবং বাধা দেওয়ায় প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিরা ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলেও পুলিশ দাবি করে।

গ্রেপ্তারের পর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। একই ঘটনায় দুই সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তবে ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসায় হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিদের মাদক সেবনের দাবি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। যদিও তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু ডোপ টেস্টের ফলাফলের ভিত্তিতে পুরো হত্যাকাণ্ডের তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।

তাদের মতে, হত্যার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ঘটনাস্থলের আলামত, আসামিদের জবানবন্দি, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য ফরেনসিক ও পারিপার্শ্বিক তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

চার খুনের মতো চাঞ্চল্যকর মামলায় পুলিশের বক্তব্য ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে এই পার্থক্য তদন্তকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং আসামিদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের পরবর্তী ধাপের দিকে এখন নজর রয়েছে।

Link copied!