প্রতীকী ছবি
প্রতিমুহূর্তে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে অক্সিজেন ও পুষ্টিসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছে দেওয়া হৃৎপিণ্ডের প্রধান কাজ। মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গের কার্যক্ষমতা নানা কারণে ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো সমস্যায় অল্প বয়সেই অনেকের হৃৎপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হৃৎপিণ্ডের পাম্প করার ক্ষমতা কমে যাওয়াকে ‘হার্ট ফেইলিওর’ বা ‘উইক হার্ট’ বলা হয়। তবে হৃৎপিণ্ড সাধারণত একদিনে পুরোপুরি অচল হয়ে যায় না। কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলে শরীর আগে থেকেই বিভিন্ন সূক্ষ্ম সংকেত দিতে থাকে। অনেক সময় এসব লক্ষণকে সাধারণ ক্লান্তি কিংবা গ্যাসের সমস্যা ভেবে অবহেলা করা হয়।
হৃদরোগের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক হতে শরীরের কয়েকটি সংকেতের কথা জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন। যেমন—
সামান্য পরিশ্রমেই অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট
সিঁড়ি দিয়ে দু-তিন ধাপ ওঠা, সামান্য হাঁটাহাঁটি কিংবা সমতল জায়গায় হাঁটার সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হাঁপিয়ে যাওয়া বা বুক ধড়ফড় করা দুর্বল হৃৎপিণ্ডের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। হৃৎপিণ্ড ঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে না পারলে ফুসফুসে রক্ত বা তরল জমে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।
পা, গোড়ালি ও পেটে অস্বাভাবিক ফোলাভাব
কোনো আঘাত ছাড়াই দুই পা, গোড়ালি, পায়ের পাতা বা তলপেট হঠাৎ ফুলে গেলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। হৃৎপিণ্ড দুর্বল হলে শরীর থেকে রক্ত টেনে নিয়ে তা যথাযথভাবে পাম্প করে ফিরিয়ে পাঠাতে সমস্যা হয়। ফলে মাধ্যাকর্ষণের কারণে শরীরের নিচের অংশে, বিশেষ করে পায়ে পানি বা তরল জমতে পারে।
অনবরত ক্লান্তি ও দুর্বলতা
পর্যাপ্ত ঘুম বা বিশ্রামের পরও সারাদিন অতিরিক্ত ক্লান্তি ও অলসতা অনুভূত হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। হৃৎপিণ্ড দুর্বল হলে মস্তিষ্ক ও পেশিতে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। ফলে সামান্য কাজেই শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়তে পারে।
শুয়ে পড়লে শ্বাসকষ্ট বা রাতে কাশি
রাতে সোজা হয়ে শোয়ার পর শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া কিংবা হঠাৎ দম বন্ধ হয়ে ঘুম ভেঙে যাওয়া সতর্কতার সংকেত হতে পারে। পিঠের ওপর সোজা হয়ে শুলে ফুসফুসে জমে থাকা তরল শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা তৈরি করতে পারে। এ কারণে অনেকেই বালিশে মাথা উঁচু করে বা বসে ঘুমাতে বাধ্য হন। রাতে অনবরত শুকনো কাশিও দুর্বল হৃৎপিণ্ডের অন্যতম লক্ষণ হতে পারে।
বুক জ্বালা, অস্বস্তি বা চাপ অনুভব
বুকে তীব্র ব্যথা না থাকলেও যদি বুকের ওপর ভারী কিছু চেপে বসার মতো অনুভূতি হয়, বুক ধড়ফড় করে বা অসাড় লাগে, তাহলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। এই অস্বস্তি অনেক সময় বুকের মাঝখান থেকে বাঁ হাত, কাঁধ, পিঠ, চোয়াল বা ঘাড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
হঠাৎ দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া
খাদ্যাভ্যাসে কোনো পরিবর্তন না থাকা সত্ত্বেও দুই-তিন দিনের মধ্যে হঠাৎ ১ থেকে ২ কেজি ওজন বেড়ে গেলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত পানি বা তরল জমার কারণে দ্রুত ওজন বাড়তে পারে।
মাথা ঘোরা, ঝাপসা দেখা বা জ্ঞান হারানো
বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে দ্রুত উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা, চোখে অন্ধকার দেখা বা মাথা হালকা লাগার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। হৃৎপিণ্ডের পাম্পিং ক্ষমতা কমে গেলে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছাতে না পারার কারণেও এসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
খিদে না পাওয়া ও পেটে ভারী ভাব
পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্রে পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ না হলে কিংবা সেখানে পানি জমলে সবসময় পেট ভরা ভরা লাগতে পারে। অল্প খাবার খেলেই বদহজম, বমি বমি ভাব এবং খাবারের প্রতি তীব্র অনীহা তৈরি হতে পারে।
হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে—
উল্লেখিত কোনো উপসর্গ নতুন করে দেখা দিলে বা ক্রমশ বাড়তে থাকলে নিজে থেকে কারণ নির্ধারণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।