চিকেন পক্স কেন হয়? আক্রান্ত হলে কী করবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক

এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১০:৩২ এএম

চিকেন পক্স কেন হয়? আক্রান্ত হলে কী করবেন?

চিকেন পক্স বা জলবসন্ত একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা বছরের যেকোনো সময় হতে পারে। তবে ঋতু পরিবর্তনের সময়, বিশেষ করে শীতের শেষ ও বসন্তের শুরুতে এর প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। সচেতনতা এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।

কারণ ও সংক্রমণ

এই রোগের জন্য দায়ী ভ্যারিসেলা জোস্টার ভাইরাস। ভাইরাসটি শ্বাসনালীর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে রক্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং ত্বকে ফুসকুড়ি তৈরি করে। এটি বায়ুবাহিত হওয়ায় খুব দ্রুত ছড়ায়। সাধারণত শৈশব বা কৈশোরে অনেকেই এতে আক্রান্ত হন এবং একবার আক্রান্ত হলে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, ফলে পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

যেভাবে ছড়ায়

আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি, সর্দি, ব্যবহৃত কাপড়, তোয়ালে বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে রোগটি ছড়ায়। ফুসকুড়ির তরল থেকেও সংক্রমণ হতে পারে। ফোসকা শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

টিকা

শিশুর বয়স এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর টিকা নেওয়া উচিত। পূর্ণ সুরক্ষার জন্য দুটি ডোজ প্রয়োজন। টিকা নিলে রোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ না হলেও এর তীব্রতা অনেক কমে যায়।

কারা বেশি ঝুঁকিতে

নবজাতক, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম—তাদের ক্ষেত্রে রোগটি গুরুতর হতে পারে।

সম্ভাব্য জটিলতা

চিকেন পক্স থেকে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেমন—

স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা: এনসেফালোপ্যাথি, সেরেবেলাইটিস, গুলেন-বারে সিনড্রোম, মেনিনজাইটিস
শ্বাসতন্ত্র ও লিভার: নিউমোনিয়া, হেপাটাইটিস
রক্ত ও ত্বক: সেলুলাইটিস, পারপুরা, ফোড়া
অন্যান্য: আর্থ্রাইটিস ও রেয়ে’স সিনড্রোম

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে একাধিক জটিলতা একসঙ্গে দেখা দিতে পারে এবং মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
ফুসকুড়ি চোখে ছড়িয়ে পড়লে
তীব্র শ্বাসকষ্ট বা দীর্ঘস্থায়ী কাশি হলে
রোগী অস্বাভাবিক তন্দ্রাচ্ছন্ন বা অচেতন হলে
ফুসকুড়ির চারপাশ ফুলে যাওয়া বা পুঁজ হলে
করণীয়

সাধারণত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে রোগ সেরে যায়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে জ্বর ও চুলকানির ওষুধ নেওয়া যেতে পারে।

আক্রান্ত ব্যক্তিকে ৭–১০ দিন আলাদা রাখুন
নখ ছোট রাখুন, চুলকানো এড়িয়ে চলুন
নিমপাতা ফুটানো পানি দিয়ে গোসল করা যেতে পারে
ঠাণ্ডা ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছলে আরাম পাওয়া যায়
সহজপাচ্য খাবার খান, ঝাল খাবার এড়িয়ে চলুন
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ গ্রহণ করবেন না
রোগের বৈশিষ্ট্য
বয়স: ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে বেশি
সুপ্তিকাল: ১০–২১ দিন
উপসর্গ: হালকা জ্বর, শরীর ব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য, পরে চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ি
চিকিৎসা

সাধারণ ক্ষেত্রে তরল ও পুষ্টিকর খাবারই যথেষ্ট। তবে গুরুতর ক্ষেত্রে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ যেমন অ্যাসাইক্লোভির ব্যবহার করা হয়।

প্রতিরোধ

টিকা গ্রহণই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Link copied!