বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ১, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন

ছবি: সংগৃহীত

প্রবীণ রাজনীতিক ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার (১ জুন) বিকেলে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তিনি  লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তোফায়েল আহমেদ দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

তিনি ৯ বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে তার জন্ম। বাবা মৌলভী আজহার আলী ও মা ফাতেমা বেগম। পারিবারিক জীবনে তিনি স্ত্রী আনোয়ারা বেগম এবং একমাত্র কন্যা ডা. তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নীকে রেখে গেছেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৬০ সালে ভোলা সরকারি হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬২ সালে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ১৯৬৪ সালে বিএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি সম্পন্ন করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি ১৯৬৬-৬৭ মেয়াদে হল সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন এবং পরে ডাকসুর ভিপি হিসেবে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেই সময়ের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কার্যক্রমে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন এবং ঐতিহাসিক এক সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি ঘোষণার ঘটনাও তার রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে পরিচিত।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুজিব বাহিনীর অন্যতম সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন এবং একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

পরবর্তীতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিভিন্ন মেয়াদে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবরণ করেন। রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের মধ্যে তিনি দীর্ঘদিন শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন।

রাজনৈতিক কারণে ১৯৭৫ সাল থেকে টানা ৩৩ মাসসহ জীবনের বিভিন্ন সময়ে অসংখ্যবার কারাবরণ করেছেন ত্যাগী এই নেতা। 

Link copied!