বাগেরহাটে খান জাহান আলী মাজারের কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সুন্দরবনে

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ৩, ২০২৬, ০২:০০ পিএম

বাগেরহাটে খান জাহান আলী মাজারের কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সুন্দরবনে

ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরটি সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সাত বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার রাত আটটার দিকে মাজার-সংলগ্ন দিঘিতে গোসলে নামা সাত বছরের শিশু ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুমিরটি শিশুটির পা আঁকড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। পরের দিন মঙ্গলবার ভোরে মাজারের মহিলা ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় মঙ্গলবার রাত দশটায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশি-বিদেশি পর্যটক ও ভক্তদের প্রাণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কুমিরটিকে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সঙ্গে মাজার এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি আরও জোরদার করার বিষয়েও একমত হন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (৩ জুন) সকাল থেকে খুলনা থেকে আসা বন বিভাগের বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ দল মাজারের দিঘিতে অবস্থান নিয়েছে। বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বিশেষজ্ঞ দলটি কুমিরটির গতিবিধি ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করে নিরাপদ স্থানান্তরের পদ্ধতি, সময় এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি নির্ধারণ করবে।

স্থানীয়দের দাবি ও জনমনের নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়েই প্রশাসন এই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

Link copied!