মে ২৮, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভারি বৃষ্টি, কাদামাখা মাঠ আর কালো মেঘে ঢাকা আকাশ - সব বাধা পেরিয়েই কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মুসল্লির উপস্থিতিতে প্রাণ ফিরে পায় দেশের অন্যতম বড় এই ঈদের জামাত।
ঈদের দিন সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল কিশোরগঞ্জে। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শোলাকিয়া অভিমুখে মানুষের স্রোতও বাড়তে থাকে। কেউ ছাতা হাতে, কেউ রেইনকোট পরে, আবার কেউ প্লাস্টিক দিয়ে নিজেকে ঢেকে ঈদগাহে পৌঁছান। মাঠজুড়ে পানি আর কাদা জমলেও নামাজ আদায়ে মুসল্লিদের আগ্রহে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি।
সকাল ৯টায় জামাত শুরু হয়। শোলাকিয়ার দীর্ঘদিনের রেওয়াজ অনুযায়ী, নামাজের আগে শর্টগানের গুলির মাধ্যমে মুসল্লিদের সংকেত দেওয়া হয়। এবারও সেই ঐতিহ্য অনুসরণ করা হয়েছে। জামাতে ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। পরে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
জামাতকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল নজরকাড়া। ঈদগাহের ভেতর ও আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট মাঠ তল্লাশি করে এবং গোয়েন্দা নজরদারিও চালানো হয়। পুরো এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বসানো হয়।
মুসল্লিদের যাতায়াতে সুবিধা দিতে বিশেষ ট্রেন চালু করা হয় ভৈরব ও ময়মনসিংহ রুটে। বৃষ্টির মধ্যেও এসব ট্রেনে করে বিপুলসংখ্যক মানুষ শোলাকিয়ায় আসেন।
নান্দাইল থেকে আসা এক মুসল্লি বলেন, “প্রতি বছর এখানে নামাজ পড়তে আসি। বৃষ্টি হলেও মনে হয়েছে এবারও আসতেই হবে।” আরেক মুসল্লির ভাষায়, “শোলাকিয়ার পরিবেশ আর একসঙ্গে এত মানুষের নামাজ—এটা অন্যরকম অনুভূতি।”
ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ প্রায় তিন শতাব্দী ধরে দেশের ধর্মীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। প্রতিবছরের মতো এবারও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে সেখানে ঈদের জামাতে অংশ নেন হাজারো মানুষ।