পর্যটকদের বেপরোয়া আচরণে অতিষ্ঠ থাইল্যান্ড, কড়াকড়ি হচ্ছে ভিসা নিয়ম

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ৪, ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

পর্যটকদের বেপরোয়া আচরণে অতিষ্ঠ থাইল্যান্ড, কড়াকড়ি হচ্ছে ভিসা নিয়ম

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য থাইল্যান্ড এবার কড়া বার্তা দিচ্ছে বিদেশি পর্যটকদের। দেশটির সরকার সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, ৯০টিরও বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত অবস্থানের মেয়াদ ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিনে নামিয়ে আনা হবে। যদিও নতুন এই নিয়ম ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনও জানানো হয়নি।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকা ক্ষোভ। থাইল্যান্ডের সাধারণ মানুষ বিদেশি পর্যটকদের একটি অংশের উচ্ছৃঙ্খল আচরণে এখন রীতিমতো বিরক্ত। রেস্তোরাঁর বিল ফাঁকি দেওয়া, রাস্তায় মাতলামি, এমনকি রাস্তার খাবার বিক্রেতার গায়ে নাকের সর্দি ছুড়ে মারার মতো ঘটনার ভিডিও সম্প্রতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

থাই ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চ্যানেলের পরিচালক মিনি বলেন, অনেক পর্যটক মনে করেন থাইল্যান্ড যেন একটি খেলার মাঠ, যেখানে যা ইচ্ছা করা যায়। তিনি আরও জানান, থাইল্যান্ডের মানুষ এখন এই ধারণা ভাঙতে চাইছেন।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব আরসিত সাম্পান্থারাত স্পষ্ট করে বলেছেন, থাইল্যান্ডে এসে কেউ প্রভাবশালীর মতো আচরণ করতে পারবেন না। স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নৈতিকতার বিরুদ্ধে যেকোনো আচরণ বরদাশত করা হবে না।

তবে এই কড়াকড়ির মাঝেও সরকারকে সামলাতে হচ্ছে বড় এক অর্থনৈতিক বাস্তবতা। থাইল্যান্ডের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ আসে পর্যটন থেকে। হোটেল, রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে রাস্তার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা এই খাতের সঙ্গে জড়িত।

পাতায়া ব্যবসা ও পর্যটন সমিতির সভাপতি চুতিমা জিরামংকল জানান, তাদের আপত্তি সত্যিকারের পর্যটকদের নিয়ে নয়। যারা পর্যটক সেজে ভিসার ফাঁকফোকর গলিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসা চালাচ্ছেন, তাদের ঠেকানোই মূল লক্ষ্য। সরকারের মুখপাত্র রাচাদা ধনাদিরেকও একই সুরে বলেছেন, পুরনো ব্যবস্থায় যে ফাঁকফোকর ছিল, তা কাজে লাগিয়ে সুযোগসন্ধানীরা অনেকদিন ধরে ফায়দা তুলে আসছিলেন।

থাইল্যান্ডের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় কথা বলে জানা গেছে, বেশিরভাগ স্বল্পমেয়াদি পর্যটক মনে করছেন এই পরিবর্তনে তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে যারা দীর্ঘমেয়াদে থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের কেউ কেউ হতাশা প্রকাশ করেছেন।

থাই সমাজে ‍‍`গ্রেং জাই‍‍` নামে একটি সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ প্রচলিত আছে, যার মূল কথা হলো অন্যকে সম্মান করা এবং কাউকে অস্বস্তিতে না ফেলা। এই স্বভাবের কারণেই থাইল্যান্ডের মানুষ এতদিন পর্যটকদের বেশিরভাগ অসদাচরণ নীরবে সহ্য করে এসেছেন। তবে সেই নীরবতা এখন ভাঙছে। 

Link copied!