ছবি: রয়টার্স
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে মালাগাকে চাপে রেখেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহ্যাম ও ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের নৈপুণ্যে প্রথমার্ধেই তিনবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় লস ব্লাঙ্কোসরা। জোসে মরিনহোর অধীনে দাপুটে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে তারা।
রোববার (৩০ আগস্ট) লা লিগার ম্যাচে নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মালাগাকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। লস ব্লাঙ্কোসদের হয়ে গোল করেছেন জুড বেলিংহ্যাম, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্দা গুলার। অন্য গোলটি এসেছে আত্মঘাতী থেকে।
এ জয়ে লিগে তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে ৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে হোসে মরিনিওর দল। সমান ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে আতলেটিকো মাদ্রিদ ও দেপোর্তিভো আলাভেস।
রিয়ালের দাপুটে পারফরম্যান্সের প্রমাণ মিলেছে ম্যাচের পরিসংখ্যানেও। ৫৭ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের উদ্দেশ্যে ১৯টি শট নিয়েছে এমবাপ্পে-বেলিংহ্যামরা, যার ৮টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে মালাগা ১৪টি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে মাত্র একটি।
আক্রমণাত্মক ফুটবলের ছাপ ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই দেখা যায় রিয়ালের খেলায়। ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ডের দূরপাল্লার জোরালো শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যাওয়ায় অবশ্য শুরুতেই গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা।
১১তম মিনিটে আবারও আক্রমণে ওঠে রিয়াল। আর্নল্ডের নিখুঁত কর্নার থেকে বক্সে লাফিয়ে উঠে হেড করেন অ্যান্টোনিও রুডিগার। তবে মালাগার এক ডিফেন্ডার কোনোমতে সেই প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন।
১৬তম মিনিটে রিয়ালের রক্ষণেও ভীতি ছড়ায় মালাগা। ডেভিড লারুবিয়ার ডিফেন্সচেরা পাস ধরে বক্সের বাঁ দিক থেকে ডান পায়ের বাঁকানো শট নেন হোয়াকিন মুনোজ। কিন্তু বল পোস্টের সামান্য ডান দিক দিয়ে বাইরে চলে যায়।
অবশেষে ১৯তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় রিয়াল। একক দক্ষতায় মালাগার ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন জুড বেলিংহ্যাম। গোলপোস্টের ডান দিকের দূরূহ কোণ থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান এই মিডফিল্ডার।
গোলের ধাক্কা সামলানোর আগেই আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ২৬তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের পাস ধরে বক্সে ঢুকে এমবাপ্পে প্রথম শট নিলে তা ঠেকিয়ে দেন মালাগা গোলরক্ষক আলফনসো হেরেরো। ফিরতি বলে বেলিংহ্যামের হেড রুখতে গিয়ে হেরেরোর গায়ে লেগে বল জালে ঢুকে যায়।
এর চার মিনিট পরই ব্যবধান ৩-০ করেন এমবাপ্পে। ৩০তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আর্নল্ডের বাড়ানো মাপা ক্রস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঠান্ডা মাথায় ডান পায়ের নিচু প্লেসিং শটে বল জালে পাঠান ফরাসি ফরোয়ার্ড।
৪২তম মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল মালাগা। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া জটলার মধ্যে বল পেয়ে রাফা রদ্রিগেজ শট নিলে তা কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে গোলবারের ডান পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
বিরতির পরও আক্রমণের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে রিয়াল। ৫৫তম মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের পাস ধরে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের নিচু শট নেন বেলিংহ্যাম। তবে এবারও গোলের দেখা পাননি তিনি; শটটি বাম পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
এরপর ৫৭ ও ৫৯তম মিনিটে দুবার মালাগাকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক হেরেরো। প্রথমবার ভিনিসিয়াসের কাছ থেকে বল পেয়ে আর্নল্ডের নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন তিনি। দুই মিনিট পর বেলিংহ্যামের ভাসানো ক্রস থেকে ছয় গজ বক্সের ভেতর এমবাপ্পের জোরালো হেডও দুর্দান্তভাবে ঠেকান মালাগার গোলরক্ষক।
৭২তম মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ তৈরি করে মালাগা। ডিবক্সের বাইরে থেকে ডেভিড লারুবিয়ার বাঁ পায়ের নিচু শট ঝাঁপিয়ে পড়ে গ্লাভসে জমা করেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।
তবে সুযোগ নষ্ট করার খেসারত দিতে হয় সফরকারীদের। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে রিয়ালের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা তুর্কি তারকা আর্দা গুলার। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পেয়ে ভিনিসিয়াস জুনিয়র ছয় গজ বক্সের মধ্যে পাস বাড়ান। সেই বলে শুধু পা ছুঁইয়ে জালে পাঠান গুলার।
খেলা শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে আরও একবার গোলের সুযোগ পান এমবাপ্পে। ইয়ান দিওমান্দির পাস পেয়ে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শট নেন তিনি। তবে হেরেরো নিচের ডান কোণ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ঠেকিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।