ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আর কোনো ‘মব কালচার’ (গণপিটুনি বা বিশৃঙ্খলা) বরদাশত করা হবে না। দাবি আদায়ের নামে মহাসড়ক বা সড়ক অবরোধ করার দিন শেষ, এবং এখন থেকে যে কোনো দাবি আইনানুগ ও বৈধ পন্থায় উপস্থাপন করতে হবে, অন্যথায় সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এদিন তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশি সংস্কার এবং পাসপোর্ট অফিসের ভোগান্তি নিরসনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
মব ভায়োলেন্স সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রথম দিনই বলেছি, বাংলাদেশে মব কালচার শেষ। যদি কোথাও এমন ঘটনা ঘটে, তবে আমাদের রিঅ্যাকশন হবে অত্যন্ত কঠোর। মব সৃষ্টির মাধ্যমে সড়ক অবরোধ করে দাবি আদায়ের জমানা শেষ। পরীক্ষা দেব না বা কালকেই রেজাল্ট চাই–এমন দাবি নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাওয়া চলবে না।’
তিনি বলেন, ‘যে কোনো বৈধ বা আইনানুগ দাবি থাকলে যথাযথ ফোরামে স্মারকলিপি দিন, মিছিল-সমাবেশ করুন বা আদালতের আশ্রয় নিন। কিন্তু জনভোগান্তি তৈরি করলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’
পুলিশের চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, বিগত সরকারের সময় লটারির মাধ্যমে ওসি ও এসপি নিয়োগের বিতর্কিত প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘লটারির মাধ্যমে নিয়োগ স্বচ্ছ ছিল না। এখন থেকে পুলিশ বিভাগ যাকে দক্ষ মনে করবে, তাকেই উপযুক্ত স্থানে পদায়ন করা হবে।’ এছাড়া জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি) পলিটিক্যাল প্রটোকল না দেয়ার এবং কেবল বিধিবদ্ধ প্রটোকল অনুসরণের নির্দেশ দেন তিনি।
৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীকে আসামি করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু সুবিধাবাদী মানুষ নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি করছে। আমরা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি এই মামলাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য। কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন আইনের শাসনের নামে হয়রানির শিকার না হয়, সেটি নিশ্চিত করা হবে।’
পাসপোর্ট অফিসের ভোগান্তি কমাতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের আদলে ‘এনলিস্টেড সহায়তাকারী’ নিয়োগের পরিকল্পনা আছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনলাইনে অভ্যস্ত নন এমন সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে একটি নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে নিবন্ধিত প্রতিনিধিরা কাজ করবেন। এতে একদিকে কর্মসংস্থান হবে, অন্যদিকে দালালদের দৌরাত্ম্য কমবে। এ ছাড়া পুলিশে জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে এবং কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ২০০৬ সালে নিয়োগ বঞ্চিত সাব-ইন্সপেক্টরদের আদালতের রায় অনুযায়ী পুনরায় নিয়োগ দেয়া হবে।
শেষে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পুলিশের কাজে অবৈধভাবে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। পুলিশ ক্ষমতা অপব্যবহার করলেও যেমন ব্যবস্থা নেয়া হবে, তেমনি পুলিশের কাজে বাধা দিলে কাউকেও ছাড় দেয়া হবে না।