রেহাই পেল না রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও, ম্যুরালে কালি লেপন

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

এপ্রিল ৪, ২০২৫, ০৫:২৬ পিএম

রেহাই পেল না রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও, ম্যুরালে কালি লেপন

ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ম্যুরালে কালি লেপন করেছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়াও নামের বানানও বিকৃতি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কালি লেপনের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।

তবে কে বা কারা কখন এমন কাজ করেছে তা জানা যায়নি। ম্যুরালটি কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালীর প্রবেশপথ জিলাপীতলা এলাকায় অবস্থিত। খবর সমকাল।

শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণপাশে অবস্থিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ম্যুরাল। ম্যুরালে কবির মুখমণ্ডল কালো রঙে ঢাকা। রবীন্দ্রনাথ ও ঠাকুর বানান দুটিও বিকৃতি করা। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ম্যুরাল চত্বরটিতে জন্মেছে লতাপাতা। চত্বরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা থাকলেও তা অকেজো। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিজয় কুমার জোয়ার্দার।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার বিজয় কুমার জোয়ার্দার বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। কারা কখন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ম্যুরালে কালি লেপন করেছে তা জানা যায়নি। অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়াও খুব দ্রুতই ম্যুরালটির সংস্কার করা হবে।’

প্রশাসনের নজরদারি নেই

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘শুক্রবার সকাল থেকে দেখা যাচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুখে কালি লাগানো। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

জানতে চাইলে কবি ও সাহিত্যিক লিটন আব্বাস বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ নয়, এ কালি পুরো বাঙালি জাতির মুখে লেগেছে। কে বা কারা কি উদ্দেশে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করা ও অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানাই।’

কুমারখালীর রবীন্দ্রগবেষক ও ভক্ত রেফুল করিম বলেন, ‘যে স্থানে বসে রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলী কাব্যগ্রন্থের সিংহভাগ রচনা করেছিলেন সেখানের মানুষের বিকৃত মস্তিষ্কের ছাপ পড়ল কিভাবে?’

কুমারখালী থানার ওসি মো. সোলায়মান শেখ বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে দুর্বৃত্তরা হয়তো এ ঘটনা ঘটাতে পারে। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Link copied!