অক্টোবর ২২, ২০২৩, ০৩:১৯ এএম
ফাইল ছবি
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জালিয়াতিপূর্ণ ও বিতর্কিত হলে দেশে হতে পারে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা অন্যান্য দেশের তরফ থেকে আসতে পারে নিষেধাজ্ঞা। আর এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ভারত ও চীনের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের নির্ভরশীলতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ।
বিশ্বজুড়ে সংঘাত প্রতিরোধ ও নিরসনে কাজ করে অলাভজনক এই বেসরকারি সংস্থাটি। এর ওয়েবসাইটে গত বুধবার চলতি অক্টোবর থেকে আগামী মার্চ পর্যন্ত সময়ের পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থা নিয়ে এমন পূর্বাভাস করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রত্যাখ্যান করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা বরং বিএনপির ওপর দমনপীড়ন অব্যাহত রাখতে পারে। তখন বিরোধী নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা সড়কে নেমে আসতে পারেন, হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটতে পারে। সরকারের বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে ইসলামপন্থী দলগুলো। জালিয়াতির অভিযোগ তুলে বিরোধীরা নির্বাচন বয়কট করতে পারে। তারা সহিংস হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনী হস্তক্ষেপ করতে পারে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিতিশীলতা বাড়তে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেখানে আরও বলা হয়, আরাকান আর্মির মতো মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই অস্থিতিশীলতায় রসদ জোগাতে পারে। বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বেড়ে যেতে পারে। ফলে সামরিক বাহিনী অভিযান চালাতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদনে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাশিবিরেও অস্থিতিশীলতা বাড়তে পারে এমন পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসএ) মধ্যে সংঘাত বেড়ে যেতে পারে। এতে বেসামরিক লোকজন আক্রান্ত হতে পারে। দাতারা ক্রমেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় শিবিরে খাদ্য অনিরাপত্তা বাড়তে পারে। এতে রোহিঙ্গাশিবিরে সহিংসতা আরও বেড়ে যেতে পারে।