জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
ফাইল ছবি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে তাড়াহুড়া করার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, বিচার একটি সংবেদনশীল বিষয়, যেখানে দ্রুততার চেয়ে সঠিক প্রক্রিয়াই গুরুত্বপূর্ণ। তবে আসামিদের ফেরত আনার বিষয়ে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
আজ (শনিবার) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
হাদি হত্যা মামলার আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখনো শতভাগ নিশ্চিতভাবে আমরা বলতে পারছি না। অন্তত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে এখনো নিশ্চিত করে বলা হয়নি যে জড়িতরা নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় অবস্থান করছেন। ইন্টারোগেশন (জেরা) থেকে আমরা কিছু ইঙ্গিত পেয়েছি যে, তারা সম্ভবত সীমান্ত পার হয়ে গেছেন। যদি আমরা খুব সুনির্দিষ্ট কোনো অবস্থান শনাক্ত করতে পারি, তাহলে ভারতকে বলতে পারব যে অমুক জায়গায় তিনি আছেন, তাকে ধরে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমনিতেই ভারতের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বজায় রয়েছে। দেখা যাক, এ ব্যাপারে আমরা কতটা অগ্রগতি করতে পারি।’
মামলার বিচার কতদিনে শেষ হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘বিচারের ক্ষেত্রে কখনোই সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায় না যে এত দিনের মধ্যেই শেষ হবে। এটি সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়। তবে আপনারা জানেন, ইতোমধ্যেই চার্জশিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চার্জশিট বিচারব্যবস্থার প্রাথমিক ধাপ যা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে এবং পুলিশই তা করবে। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক চেষ্টা থাকবে যেন যত দ্রুত সম্ভব অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করে শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করবে আদালত, সরকার সার্বিক সহযোগিতা করবে।’
নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক কোনো চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা রয়েছে এবং মোটের ওপর বহির্বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। চাপের কোনো প্রশ্নই নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিজেরাই নির্বাচন করতে চাইছি। সেক্ষেত্রে বাইরের কোনো চাপের প্রয়োজন নেই। এই সরকার চায়, যত দ্রুত সম্ভব ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘সময় খুবই সংক্ষিপ্ত, মাত্র ছয় সপ্তাহ। তাই এখানে কারও চাপের বিষয় নেই। আমরা নিজেরাই সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং ইনশাআল্লাহ, সময় মতো বিষয়গুলোর সমাধান করতে পারবো। আর অন্যান্য দেশ আমাদের সঙ্গে কতটা ভালো সম্পর্ক রাখবে, সেটি তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়, আমাদের নয়।’
এর আগে শনিবার বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের দক্ষিণ কোটগাঁওয়ে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। পরে তিনি শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ তিনজনের কবর জিয়ারত করেন।
এ সময় মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।