আদালত সূত্রে জানা যায়, রায় ঘোষণার পর প্রদীপ কুমার দাশ বলতে থাকেন, “আমি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমি নির্দোষ। আমি কোনো অপরাধ করিনি। আমি দুর্নীতি করিনি।”
প্রদীপ আরও বলেন, “আমাকে সিনহা হত্যা মামলায় যে রায় দেওয়া হয়েছে সেখানে আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। আপনারা সম্পূর্ণভাবে তদন্ত করে দেখেন। আমি মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নের জন্য যুদ্ধ করেছি। যাতে আর কোনো ঐশী (বাবা-মাকে খুন করার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত) তৈরি না হয়। মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি যাতে যুবসমাজ ধ্বংস না হয়। আমি কোনো অপরাধ করেনি। অনুসন্ধান করে দেখেন। আজকের রায়ের বিরুদ্ধে আমি উচ্চ আদালতে যাব।”
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের ২০ বছর ও তার স্ত্রী চুমকি কারনকে ২১ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার সকালে সোয়া ১১টায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আবদুল মজিদের আদালত এই রায় দেন।
দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, আদালত প্রদীপকে ২০ বছর এবং তাঁর স্ত্রী চুমকিকে ২১ বছর কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রদীপের ঘুষের টাকায় চুমকির নামে নেওয়া কোটি টাকার বাড়ি, গাড়ি ও ফ্ল্যাট রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় প্রদীপ ও চুমকি—দুজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রদীপ ও চুমকিকে আদালতে আনা হয়। পরে তাঁদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
২০২০ সালের ২৩ আগস্ট প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাটি করা হয়। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়,চট্টগ্রাম-২-এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন এ মামলা করেন।
মামলায় তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। ২০২১ সালের ২৬ জুলাই প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর এই মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। মামলার পর থেকে পলাতক ছিলেন চুমকি। গত ২৩ মে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।