জুন ২৯, ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী | ফাইল ছবি
নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আগের ঋণ কর্মসূচি থেকে বর্তমান সরকার সরে এসেছে, কারণ সেটির কিছু শর্ত জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী ছিল।
আজ (সোমবার) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে চলা দ্বিতীয় অধিবেশনে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘সরকার আইএমএফ থেকে শূন্য হাতে ফিরে আসেনি। বরং ফ্যাসিবাদী সরকার আইএমএফ’র এমনকিছু শর্তে ঋণ নিতে রাজি হয়েছিল, যা জনগণের স্বার্থবিরোধী। এ কারণে ওই কর্মসূচি থেকে বর্তমান সরকার সরে এসেছে। নতুন করে ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফ’র সঙ্গে আলোচনা চলছে।’
দেশের ঋণ পরিস্থিতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ ৯ লাখ ৪৯ হাজার ১৮১ কোটি টাকা।
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অর্থ পাচার প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, ‘যারা জনগণের সম্পদ লুট করেছে তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এখন পর্যন্ত ১১টি মামলায় দেশ-বিদেশে প্রায় ৭২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ১৩টি দেশে ২৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।’
শেয়ারবাজারে গতি ফেরাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো দলীয়করণ করা হয়নি। বরং দক্ষ অভিজ্ঞদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’
এ সময় অর্থমন্ত্রী জানান, মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ‘ভিওন’ বাংলাদেশে আরও এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আগামীতে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার প্রবণতা কমবে। ঋণ নেয়ার কারণে বেসরকারি খাত যাতে চাপে না পড়ে সে ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট থাকবে।’
জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে আরও এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, দ্বিতীয় রিফাইনারি স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। এ জন্য জনগণকে কিছুটা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের নজরদারি করা হবে। এতে অনিয়ম দুর্নীতি কমবে।’