ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দিন তুলনামূলক শান্ত থাকার পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানি তেলের মজুত কমার খবরও দাম বাড়ার প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
আজ (বুধবার) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ বিশ্ববাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ৩.১৫ ডলার বা ৩.৮ শতাংশ বেড়ে ৮৭.২৪ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলে ২.৭৩ ডলার বা ৩.৪ শতাংশ বেড়ে ৮১.৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলারের নিচে নেমে এসেছিল, যা ছিল গত ২০ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন।
আইএনজির বিশ্লেষকরা জানান, মার্কিন বাহিনীর ওপর সারপ্রাইজ অ্যাটাকের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়ার ঘটনার পর বাজারে নতুন করে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত নিরসনের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়েছে।
সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জবাবে বুধবার সকালে ইরাকে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ওমানের প্রস্তাবিত যৌথ পরিচালনা পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ হতো গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে।
ডিবিএস ব্যাংকের শক্তি গবেষণা বিভাগের প্রধান সুভ্রো সরকার জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে আপাতত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
এদিকে, আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩৩ লাখ ব্যারেল কমেছে। বাজারে এরও বড় প্রভাব পড়েছে।