ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম শহর জোহানেসবার্গে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। শহরের ক্লিভল্যান্ডে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা আবাসিক এলাকায় সংঘটিত এ ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হয়েছেন।
একদল সশস্ত্র হামলাকারী ওই বসতিতে ঢুকে একাধিক স্থানে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। হামলার কারণ এখনও জানা যায়নি, তবে ঘটনার তদন্ত চলছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে ক্লিভল্যান্ড এলাকায় এই হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চলছে। এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, ক্লিভল্যান্ডের একটি পেট্রোল স্টেশনের কাছে সাদা টয়োটা কোয়ান্টাম গাড়ি থেকে ১০ জনের বেশি সন্দেহভাজনকে নামতে দেখা যায়।
পরে তারা ওই বসতির দুটি প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং একাধিক স্থানে বাসিন্দা ও স্থানীয় লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর একই গাড়িতে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
বিবিসি আরও জানায়, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটে এমন দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা অন্যতম। দেশটিতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ জন মানুষ হত্যার শিকার হন। দেশটির অবৈধ বসতিগুলোতে বন্দুক হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে গ্যাং-সহিংসতা বা ব্যক্তিগত বিরোধ এই হামলার পেছনে কাজ করে।
স্থানীয় পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে গুলির ঘটনার অভিযোগ পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলেই আটজন পুরুষ ও তিনজন নারী নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন পুরুষের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে গুলিবিদ্ধ অন্তত ৯ জনকে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘হামলার উদ্দেশ্য এখনও জানা যায়নি এবং তদন্তে এটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ আফ্রিকার অবৈধ বসতিগুলোতে বন্দুক হামলা প্রায়ই ঘটে। গত বছর জোহানেসবার্গের একটি মদের দোকানে হামলায় ৯ জন নিহত হয়েছিলেন।
দক্ষিণ আফ্রিকান গানওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের গিডিওন জুবার্টের উদ্ধৃত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বৈধভাবে নিবন্ধিত আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। পাশাপাশি সমপরিমাণ অবৈধ অস্ত্রও ছড়িয়ে আছে বলে ধারণা করা হয়।