ছবি: এপি
৪১ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে বড় জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসে গড়েছেন নতুন রেকর্ড। রোনালদোর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল।
৪১ বছর ১৩৮ দিন বয়সে এক ম্যাচে দুই গোল করে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে জোড়া গোল করার রেকর্ড এখন তার দখলে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল লিওনেল মেসির।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচে জোড়া গোল করার সময় মেসির বয়স ছিল ৩৮ বছর ৩৬৩ দিন।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল পর্তুগালের। একের পর এক আক্রমণে উজবেকিস্তানের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছে দলটি। প্রথমার্ধেই গোলের দেখা পান রোনালদো। ম্যাচের ৬ মিনিটেই গোল করে অনন্য এক রেকর্ড গড়েন তিনি। এই গোলেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করার কীর্তি গড়েন তিনি। এর আগে সর্বোচ্চ পাঁচটি বিশ্বকাপে গোল করেছিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
ম্যাচের শুরুতেই ডান দিক থেকে জোয়াও কানসেলোর বাড়ানো বল পেয়ে গোল করেন রোনালদো। পর্তুগালের জার্সিতে এটি তার ১৪৪তম গোল। এরপর ১৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে পর্তুগাল। নুনো মেন্দেসের দুর্দান্ত ফ্রিকিকে উজবেকিস্তানের জালে বল জড়ায়।
এর আগে অবশ্য উজবেকিস্তানও একবার গোলের দেখা পেয়েছিল। আজিজ গানিয়েভের প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শট জালে গেলেও ভিএআরের হস্তক্ষেপে গোলটি বাতিল হয়। গোলের আগে জোয়াও কানসেলোর ওপর ফাউলের কারণে সিদ্ধান্ত বদলানো হয়।
এরপর ৩৯ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত পাস ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন রোনালদো। বল পেয়ে দূরের কোনায় পাঠিয়ে দেন তিনি। এই গোলে পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলে সবার ওপরে এখন রোনালদো। ইউসেবিওর ৯ গোল ছাড়িয়ে রোনালদোর গোল এখন ১০।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে রবার্তো মার্টিনেজের দল। ৬০ মিনিটে কর্নার থেকে জোয়াও ফেলিক্সের ফ্লিকের পর বল নিজেদের জালে পাঠান উজবেকিস্তানের আবদুকোদির খুসানভ। আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান বাড়ায় পর্তুগাল।
৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরও আক্রমণ থামায়নি পর্তুগাল। ম্যাচের শেষ দিকে রাফায়েল লেয়াও দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে পঞ্চম গোলটি করেন। ডান দিক থেকে নেলসন সেমেদোর বাড়ানো বল পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান তিনি।
হ্যাটট্রিকের সুযোগও পেয়েছিলেন রোনালদো। তবে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও উজবেকিস্তানের গোলরক্ষক আবদুভোখিদ নেমাতভ তাকে তৃতীয় গোল করতে দেননি।
পুরো ম্যাচজুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল পর্তুগালের। উজবেকিস্তান লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও ইউরোপের শক্তিশালী দলটির আক্রমণভাগের সামনে খুব বেশি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি।