জুন ১৩, ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ওপর মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে এক উপপরিদর্শক (এসআই)সহ তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে খুলশী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
আজ (শনিবার) এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে চট্টগ্রামে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে বাসায় যাওয়ার পথে এ ঘটনার শিকার হন নাঈম।
জানা গেছে, রাতে বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। টোল প্লাজার কাছে ট্রাফিক পুলিশ তাদের থামায়। পরে লালখান বাজার পর্যন্ত একজন ট্রাফিক পুলিশ সঙ্গে ছিলেন। এরপর পুলিশ পোশাকে এবং সিভিল ড্রেসে থাকা দুই ব্যক্তি গাড়ি তল্লাশির চেষ্টা করেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাঈম বলেন, ‘রাত ১০টা ২০ মিনিটে আমাদের ফ্লাইট চট্টগ্রামে পৌঁছায়। তখন কোনো গাড়ি না পেয়ে আমি সিএনজিতে করে বাসায় ফিরছিলাম। টোল প্লাজার কাছে একজন ট্রাফিক পুলিশ আমাদের থামান। তিনি লালখান বাজার পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে আসেন। এরপর একজন পুলিশ পোশাকে এবং আরেকজন সিভিল ড্রেসে এসে আমাদের গাড়ি তল্লাশি করতে চান। আমি ভেবেছিলাম তারা শুধু ব্যাগ চেক করবেন।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘এসআই শফিক আমাকে ধাক্কা দিয়ে সিএনজির ভেতরে ঢুকিয়ে দরজা লক করে দেন। আমি জানতে চাইছিলাম কী হয়েছে। তখন ভয় পেয়ে যাই। তিনি আমাকে বলেন, ‘তুই আসামি, চুপ থাক, একটা কথাও বলবি না।’ এরপর তিনি আমার কলার চেপে ধরেন এবং লাঠি দিয়ে মারধর করেন। শারীরিকভাবেও নির্যাতন করা হয়েছে।’
ঘটনাস্থলে পরিচয় শনাক্ত হলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি বলে দাবি করেন নাঈম। তিনি বলেন, ‘আমার গলা চেপে ধরা হয়েছিল। তখন আমি চিৎকার করি এবং বাবাকে ফোন দিই। পরে আমার মোবাইলও নিয়ে নেয়া হয়। ঘটনাস্থলে থাকা অনেকেই আমার পরিচয় নিশ্চিত করেছিলেন, কিন্তু তারপরও তারা আমার গলা চেপে ধরে রাখেন।’
পরে তাকে থানায় নেওয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানে আমি ওসিকে নিজের পরিচয় দিই। ওসি আমাকে বলেন, ‘চোখ নিচু করে কথা বলো।’ পরে যখন আমাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসতে শুরু করে, তখন তার আচরণ বদলে যায়।’
এসআই শফিকের বিরুদ্ধে সরাসরি মারধরের অভিযোগ তুলে নাঈম আরও বলেন, ‘তিনি আমাকে লাঠি দিয়ে মেরেছেন। আমি বলেছি, আমার গায়ে হাত দেয়ার অধিকার আপনার নেই। তারপরও তিনি মারধর করেছেন।’
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। পরে অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয় এবং মামলার ভিত্তিতে একজনকে আটক করা হয়েছে।