জুন ১৪, ২০২৬, ০১:৪০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গ্লোবাল পিস ইনডেক্স (জিপিআই) ২০২৬–এ দক্ষিণ এশিয়ার চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। এ তালিকায় ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে দেশটি।
অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (আইইপি) গত ৯ জুন প্রকাশিত এই সূচকে বাংলাদেশকে ‘মিডিয়াম’ বা মধ্যম শান্তির স্তরে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
মোট ১৬৩টি দেশ ও অঞ্চল নিয়ে তৈরি এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৭তম এবং স্কোর ৫-এর মধ্যে ২.২২৬। বিশ্বের ৯৯.৭ শতাংশ জনসংখ্যাকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রকাশিত এটি জিপিআইয়ের ২০তম সংস্করণ।
সূচকে শান্তির হিসাব করা হয় মূলত তিনটি ক্ষেত্রে ২৩টি সূচকের ভিত্তিতে—সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, চলমান অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং সামরিকীকরণ। স্কোর যত কম, শান্তির মাত্রা তত বেশি।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে স্কোর বিভাজন ছিল—সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় ২.৫৭৯, চলমান সংঘাতে ২.২৩৭ এবং সামরিকীকরণে ১.৬১৫।
দক্ষিণ এশিয়ায় এবারও সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে ভুটান, যা বৈশ্বিক তালিকায় ১৬তম স্থানে আছে এবং একমাত্র দেশ হিসেবে ‘উচ্চ’ শান্তির ক্যাটাগরিতে রয়েছে। এরপর শ্রীলঙ্কা ৬৭তম এবং নেপাল ১১১তম স্থানে রয়েছে।
চলমান সংঘাতের সূচকে অবনতি হওয়ায় ‘নিম্ন’ শান্তির স্তরে নেমে গেছে ভারত, যার দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থান পঞ্চম এবং বৈশ্বিকভাবে ১২৭তম। অন্যদিকে পাকিস্তান (১৫২তম) ও আফগানিস্তান (১৫৭তম) আবারও এই অঞ্চলের সবচেয়ে অশান্ত দেশ হিসেবে নিচের দিকে অবস্থান করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালে দক্ষিণ এশিয়া শান্তির সূচকে সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক পতন দেখেছে—গড়ে ২.৩ শতাংশ অবনতি হয়েছে। মূলত চলমান সংঘাতের কারণে এই ধস, যা ৭.১ শতাংশ পর্যন্ত খারাপ হয়েছে। এর পেছনে ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা ও সীমান্ত উত্তেজনাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈশ্বিকভাবে টানা ১৯ বছরের মতো সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে আইসল্যান্ড। এরপর নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ও আয়ারল্যান্ডের অবস্থান।
অন্যদিকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় শীর্ষে এসেছে রাশিয়া। এরপর রয়েছে সুদান, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইউক্রেন ও ইসরায়েল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে বৈশ্বিক শান্তির মাত্রা ০.৭ শতাংশ কমেছে এবং টানা ১২ বছর ধরে এই অবনতি চলমান। বিশ্লেষণে থাকা ১৬৩ দেশের মধ্যে ৯৯টি দেশে শান্তির অবনতি এবং ৬২টি দেশে উন্নতি দেখা গেছে।
এছাড়া প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশগত হুমকিকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এলএনজি আমদানি ব্যয় এবং বিশ্ববাজারের চাপ বাড়লে অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
চরম পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় জিডিপির ১.৫ থেকে ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকির কথাও তুলে ধরা হয়েছে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে দক্ষিণ এশিয়ার আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপর।