জুন ৯, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে। এই ঘাটতি মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা করেছে সরকার।
অর্থনৈতিক চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বিএনপি সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেটে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আয়ের তুলনায় ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বড় অঙ্কের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
বাজেট পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা আসবে ব্যাংক খাত থেকে।
সরকার ট্রেজারি বিল, বন্ড এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে এসব অর্থ সংগ্রহ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, সরকারি ঋণ গ্রহণের ফলে যেন বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ সংকুচিত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে। প্রয়োজনে সঞ্চয়পত্র ও ট্রেজারি বন্ড বিক্রির পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মতে, টানা কয়েক বছর ধরে বাজেট ঘাটতি দুই লাখ কোটি টাকার বেশি থাকায় নতুন সরকারের সামনে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বেসরকারি বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, কর ব্যবস্থায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।