জুন ১৩, ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত স্থায়ীভাবে নিরসনের লক্ষ্যে একটি নতুন শান্তি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে এবং উভয় দেশ সেই খসড়ায় একমত হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “পাকিস্তানের চলমান নিবিড় মধ্যস্থতার সত্ত্বেও যারা (যুক্তরাষ্ট্র-ইরান) শান্তিচুক্তির ব্যাপারটিকে বানচাল করতে চায়— তারা অবিরাম অপতথ্য প্রচার করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আমরা পুরোপুরি অবগত। এই হট্টগোলকে একপাশে রেখে আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে শান্তিচুক্তির একটি চূড়ান্ত খসড়ায় আমরা পৌঁছাতে পেরেছি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান— উভয়েই সেই খসড়ায় সম্মতি দিয়েছে। পাকিস্তান এখন পরবর্তী পদক্ষেপগুলো চূড়ান্ত করার জন্য উভয় পক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। শান্তি এখনকার মতো এত কাছাকাছি আগে কখনো আসেনি।”
এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচিও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, “ইরান-সমঝোতা স্মারক এর আগে কখনও এত কাছাকাছি আসেনি। গণমাধ্যমের উচিত এটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো প্রকার জল্পনা-কল্পনা ছড়ানো থেকে বিরত থাকা।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের দায়িত্ব এবং স্বচ্ছ কর্মপন্থা অনুযায়ী, যথাসময়ে এই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।”
প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হলেও রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, এতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে— ইরান যদি হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ তুলে নেয় এবং মাইন অপসারণ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দকৃত (ফ্রোজেন) অর্থ থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার মুক্তি দেবে এবং তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করবে।
এছাড়া চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময় নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরানকে যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বিধিনিষেধ আরোপের দাবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে থাকা ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ রয়েছে, যা ৯০ শতাংশে উন্নীত হলে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, ইরানকে এই ইউরেনিয়াম থেকে সরে এসে তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
নতুন খসড়ায় ইউরেনিয়াম বিষয়ে নির্দিষ্ট উল্লেখ না থাকলেও এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম ধ্বংস করা হবে এবং তাদের পরমাণু কর্মসূচিও বাতিল করতে হবে। তবে এসব শর্ত পূরণ হলেই কেবল ফ্রোজেন অর্থ, ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুযোগ মিলবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “প্রস্তাবিত নতুন চুক্তিটি হবে পুরোপুরি পারফরম্যান্সভিত্তিক; অর্থাৎ ইরান যদি হরমুজ থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করে, পরমাণু প্রকল্প বাতিল না করে এবং ইউরেনিয়াম ধ্বংস না করে— তাহলে ফ্রোজেন অর্থ থেকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, ক্ষতিপূরণ মিলবে না এবং নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হবে না।”
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এক্সে দেওয়া এক মন্তব্যে বলেন, “প্রথম কথা হলো, শুধুমাত্র বৈঠকে উপস্থিত থাকা এবং চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেই ইরান নগদ অর্থ কিংবা নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাবে— এমনটি ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই।”
তবে ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েল-লেবানন ইস্যুতে হামলা বন্ধের দাবি থাকলেও প্রস্তাবিত খসড়ায় এ বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
সূত্র: রয়টার্স, জিও নিউজ