তিস্তায় আরেকটি ব্যারাজ নির্মাণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ১৭, ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

তিস্তায় আরেকটি ব্যারাজ নির্মাণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে আরও একটি ব্যারেজ নির্মাণের জন্য কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

আজ (বুধবার) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানানো হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী এদিন সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও তার নির্ধারিত প্রশ্নের জবাব টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তিস্তা নদীবেষ্টিত এলাকার জীবনমান উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং তিস্তা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু বা পরিকল্পিত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে কি না—এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তা নদীর উজানে বাঁধ দেওয়াসহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি প্রবাহ কমে যায়। যার ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পসহ কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে উজানে অতি বৃষ্টির কারণে হঠাৎ বন্যা ও নদীভাঙন সংগঠিত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিস্তা এলাকার ৫টি জেলায় (রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা এবং লালমনিরহাট) নদীভাঙন রোধে বিগত ও চলতি অর্থবছরে ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২.৫ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান রয়েছে, যা এ মাসেই সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত রয়েছে। আরও উল্লেখ্য, এই কাজের মধ্যে রংপুর-৪ সংসদীয় এলাকার তিস্তা নদীর অংশে ভাঙন রোধে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪.৬ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান আছে, যার বাস্তবায়নও চলতি মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীভাঙন অনেকাংশেই প্রশমিত হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘তিস্তা নদীকেন্দ্রিক টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সমীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে ১১০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ (নদী শাসন), ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও মেরামত এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।’

Link copied!