ছবি: সংগৃহীত
টানা বৃষ্টিতে রোববার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি পানিতে তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষ। বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মাসে এক রাতে সর্বোচ্চ। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৯৭ মিলিমিটার। এছাড়া সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আরও ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ সারাদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজধানীর বিজয় সরণি, মানিক মিয়া এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ধানমন্ডি, মিরপুরের কাজীপাড়া, কালশীসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে গেছে। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি থাকায় যানবাহনের গতি কমে গেছে এবং সৃষ্টি হয়েছে যানজট। ফুটপাত ডুবে যাওয়ায় পথচারীদের প্রধান সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে চলন্ত যানবাহনের সৃষ্ট ঢেউয়ে পথচারীরা ভিজে যাচ্ছেন। এছাড়া সরু গলি থেকে প্রধান সড়কে ওঠাও অনেক বাসিন্দার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও মেট্রোরেল স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। যাত্রীর চাপও ছিল তুলনামূলক বেশি। সচিবালয় ও মতিঝিল মেট্রো স্টেশনে বৃষ্টির সময় কর্মজীবী মানুষের ভিড় দেখা গেছে। অন্যদিকে সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল কম। গণপরিবহনে যাত্রীর চাপ ছিল স্বাভাবিক দিনের চেয়ে বেশি।
জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও প্রভাব পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারেনি। মিরপুরের মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পূর্বনির্ধারিত অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা, দশম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা এবং একাদশ শ্রেণির ব্যবহারিক পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া নিয়ে তানুজা আকবর নামের এক অভিভাবক বলেন, ধানমণ্ডি কামরুন্নেছা স্কুলের অর্ধবার্ষিকী এবং প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা বৈরি আবহাওয়ার কারণে স্থগিত করা হয়েছে। একই চিত্র রাজধানীর অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেলায়ও।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিকুল নেওয়াজ কবীর জানান, সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর ফলে দেশের সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে। তবে শনিবার এই দুই বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমেছে।
তিনি বলেন, আজ রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে আগামী সোমবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে আগের ১২ ঘণ্টাতেই হয়েছে ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টি। তাঁর মতে, আরও দুই থেকে তিন দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।