ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ভুল স্বীকার এবং অনুশোচনা প্রকাশ না করে অর্থবহ রাজনৈতিক অংশগ্রহণে ফিরে আসার আশা করতে পারে না; কারণ দলটি নিজেই চলমান নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে।’
আজ মঙ্গলবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই)’ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’-এর বয়ান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেই নির্বাচনি প্রক্রিয়ার বাইরে থাকার পথ বেছে নিয়েছে।
‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের’ ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি স্বেচ্ছায় নির্বাচন বর্জন করে, তাহলে তাদের কীভাবে নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত করা যায়?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন আজ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলি, তখন আমাদের নিজেদেরই প্রশ্ন করা উচিত যে গত ১৬ বছরে আমরা কী করেছি। সেই সময়ে কতজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাহস ছিল এটা বলার যে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না?’
ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ দাপ্তরিকভাবে ভোট বর্জন করলেও তারা পরোক্ষভাবে নির্বাচনের পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। তিনি বলেন, ‘তারা সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার মাধ্যমে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। এটি তাদের সমর্থক, দেশি-বিদেশি এজেন্ট এবং কিছু ক্ষেত্রে আশ্রয়দাতা দেশগুলোর উৎসাহের মাধ্যমে ঘটছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগের অনেক ভোটার ইতোমধ্যে জেলে থাকা অবস্থায় তাঁদের ভোট দিয়েছেন, যা নির্বাচনি অংশগ্রহণের বিষয়ে দলের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সেই ভোটাররা ইতোমধ্যে ভোট দিয়েছেন। আপনারা নিজেরাই এর প্রতিবাদ করেছিলেন।’
তৃণমূল পর্যায়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা দলীয় ব্যানারে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না, বরং অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন বা তাদের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি যোগ করেন, ‘তবুও কিছু মানুষ বলছেন যে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। কোন যুক্তিতে এটি বলা হচ্ছে?’
ইফতেখারুজ্জামান জোর দিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিজেই নিজেকে রাজনৈতিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে, অন্য কেউ তা করে দিতে পারবে না।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি নিজেকে রাজনৈতিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তবে তাদের নিজেদের কাজের দায়িত্ব নিতে হবে। দলটির বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মূলত তাদের নিজস্ব নেতৃত্বের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোই দায়ী।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি তারা দায়ভার গ্রহণ করে, অনুশোচনা প্রকাশ করে এবং বলে যে—আমরা ভুল ছিলাম, তবে আমি মনে করি এদেশের মানুষ তাদের গ্রহণ করবে। কিন্তু তারা সেটা করবে কি না, তা সম্পূর্ণ তাদের ওপর নির্ভর করে।’