মার্চ ৫, ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং আশপাশের এলাকার ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায় জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে নতুন করে ৬৭ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে জাপান সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে ডব্লিউএফপি।
সংস্থাটি জানায়, নতুন এই অর্থ সহায়তার মাধ্যমে কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ পুষ্টি সহায়তাও দেওয়া হবে।
এ অর্থায়নের একটি অংশ স্থানীয় ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায়ও ব্যয় করা হবে। ‘অ্যাগ্রিগেশন সেন্টার’ মডেলের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য একত্র করে স্থানীয় বাজারে বিক্রির সুযোগ তৈরি করা হবে। এর ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজি, ডিম ও চালসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সহজেই মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে জাপান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে ডব্লিউএফপির সঙ্গে এই অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডব্লিউএফপির সহায়তায় রোহিঙ্গা পরিবারগুলো প্রতি মাসে খাদ্য ভাউচার পেয়ে থাকে। এসব ভাউচার দিয়ে নির্ধারিত দোকান থেকে চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করা যায়। একইসঙ্গে তাজা শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার কেনার সুযোগও রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় কৃষকদের সহায়তার অংশ হিসেবে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি অবকাঠামো মেরামত করা হবে। পাশাপাশি অ্যাগ্রিগেশন সেন্টারগুলোতে হিমাগার ও আধুনিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাত সুবিধা স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ডব্লিউএফপির ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন পারচমেন্ট বলেন, কক্সবাজারে মানবিক চাহিদা যখন অত্যন্ত বেশি, ঠিক তখন জাপান সরকারের এই সহায়তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি অন্য দাতা সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে এসে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা শুরুর পর থেকে কক্সবাজারে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি চালিয়ে যেতে বড় ধরনের অর্থ সংকটের মুখে পড়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।