এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি বর্ধিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রোববার (২৬ এপ্রিল) শেষ হতে যাচ্ছে বলে ইসরায়েলকে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার কান (কেএএন) বুধবার (২২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন কর্মকর্তারা তেল আবিবকে নিশ্চিত করেছেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের জন্য যে সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হবে।
ইস্তাম্বুল থেকে তারেক শুইরেফের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের আলোচনার পরিবর্তে ইরানের সঙ্গে দ্রুত একটি বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে চান। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রোববারের মধ্যে বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা ক্ষীণ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানায়, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘বিভ্রান্তি’ কাজ করছে। তাদের দাবি, তারা ট্রাম্পের অনেক সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কেবল গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তার পোস্ট থেকেই জানতে পারছেন।
বুধবার সকালে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ফক্স নিউজকে জানান, এই যুদ্ধবিরতি তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সূত্রগুলো বলছে, পুরো পরিস্থিতি এখনো অস্পষ্ট এবং তা মূলত ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের অনুরোধের পর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় তিনি শর্ত দেন, তেহরানকে একটি ‘একীভূত প্রস্তাব’ পেশ করতে হবে এবং সেটি না হওয়া পর্যন্ত সাময়িক শান্তি বজায় থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এর জবাবে তেহরানও ইসরায়েল এবং মার্কিন সম্পদ রয়েছে এমন আঞ্চলিক দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১–১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বর্তমানে দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি চললেও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রোববারের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে ইরান যদি কোনো গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব না দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
পাকিস্তান নতুন করে আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আস্থার সংকট এখনো প্রধান বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন নজর রোববারের দিকে—কোনো কূটনৈতিক সমাধান আসে কি না, সেটিই দেখার বিষয়। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি