১৭শ শতকের বিরল ভারতীয় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক যন্ত্র নিলামে উঠছে

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

১৭শ শতকের বিরল ভারতীয় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক যন্ত্র নিলামে উঠছে

ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় রাজপরিবারের সংগ্রহে থাকা একটি বিরল পিতলের অ্যাস্ট্রোল্যাব এবার নিলামে উঠছে। এক হাজার ৭০০ বছরের পুরোনো এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক যন্ত্রটি আগামী ২৯ এপ্রিল লন্ডনের আর্ন্তজাতিক নিলাম প্রতিষ্ঠান  সোথবিতে নিলামে তোলা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল একটি প্রাচীন যন্ত্র নয় বরং একসময়কার জ্ঞান-বিজ্ঞানের অনন্য নিদর্শন। বহনযোগ্য এই অ্যাস্ট্রোল্যাবটি অতীতে সময় নির্ধারণ, নক্ষত্রের অবস্থান জানা, এমনকি দিক নির্ণয়ের মতো কাজে ব্যবহৃত হতো।

সোথবির ইসলামিক ও ভারতীয় শিল্প বিভাগের প্রধান বেনেডিক্ট কার্টার জানিয়েছেন, আকার ও গঠন বিবেচনায় এটি এ ধরনের যন্ত্রের মধ্যে অন্যতম বড় এবং এতদিন জনসমক্ষে প্রদর্শিত হয়নি।

ইতিহাস বলছে, যন্ত্রটি একসময় জয়পুরের মহারাজা দ্বিতীয় সওয়াই মান সিংয়ের  রাজকীয় সংগ্রহে ছিল। পরে এটি তার স্ত্রী গায়ত্রী দেবীর কাছে হস্তান্তরিত হয় এবং এরপর তার জীবদ্দশায় এটি একটি ব্যক্তিগত সংগ্রহে চলে যায়।

ছবি: সংগৃহীত

গবেষকদের মতে, অ্যাস্ট্রোল্যাব মূলত একটি জটিল ধাতব ডিস্ক, যা দিয়ে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, নক্ষত্রের অবস্থান এবং বিভিন্ন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব নির্ণয় করা যেত। এমনকি ভবনের উচ্চতা বা দূরত্ব নির্ধারণেও এটি ব্যবহৃত হতো।

অ্যাস্ট্রোল্যাবের উদ্ভব হয় প্রাচীন গ্রিসে খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে। অষ্টম শতকের দিকে এটি ইসলামি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ইরাক, ইরান, উত্তর আফ্রিকা এবং স্পেনের উৎপাদনকারী হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

এই বিশেষ যন্ত্রটি ১৭শ শতকের শুরুতে বর্তমান পাকিস্তানের লাহোরে তৈরি করা হয়েছিল। কাইম মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদ মুকিম নামক দুই ভাই আগা আফজাল নামক একজন অভিজাত মুঘল ব্যক্তির জন্য যন্ত্রটি তৈরি করেছিলেন। ওই ব্যক্তি তখন লাহোর প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন এবং উচ্চপদে সম্রাট জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের অধীনে কাজ করতেন। এতে পারস্য ও সংস্কৃত ভাষায় খোদাই করা তথ্য রয়েছে। এতে ৯৪টি শহরের নাম, তাদের দ্রাঘিমাংশ-অক্ষাংশসহ ৩৮টি নক্ষত্র নির্দেশক রয়েছে। এছাড়া এতে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ভাগ করা ডিগ্রি চিহ্নসহ পাঁচটি নির্ভুল প্লেট রয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত

এর ওজন প্রায় ৮ কেজির বেশি এবং সাধারণ অ্যাস্ট্রোল্যাবের তুলনায় প্রায় চার গুণ বড় এই যন্ত্রটির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ১৫ থেকে ২৫ লাখ পাউন্ড। ইতোমধ্যে জাদুঘর ও ব্যক্তিগত সংগ্রাহকদের মধ্যে এটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

নিলামের আগে ২৪ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত এটি লন্ডনে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে।

Link copied!