এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাঙালির পাশাপাশি চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারোসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব যেন শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
সভা সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরসহ দেশের সব বড় অনুষ্ঠানস্থলে কার্যক্রম সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে। বিকেল ৫টার পর এসব স্থানে নতুন করে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বৈশাখী শোভাযাত্রাকে ঘিরে থাকবে কঠোর নজরদারি। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ পরে অংশ নিতে পারবেন না, তবে হাতে বহন করা যাবে। এছাড়া শোভাযাত্রা শুরুর পর মাঝপথে কেউ যুক্ত হতে পারবেন না।
নিরাপত্তার স্বার্থে দেশজুড়ে ফানুস ওড়ানো, আতশবাজি, গ্যাস বেলুন এবং ভুভুজেলা বাঁশি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল বা গাড়ির রেসিং বন্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হবে। পাশাপাশি ওয়াচ টাওয়ার, সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে বসানো থাকবে। ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার ঠেকাতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।
সব বড় আয়োজনস্থলে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা দল প্রস্তুত থাকবে। রমনা লেকে দুর্ঘটনা এড়াতে ডুবুরি দলও মোতায়েন করা হবে।
এছাড়া পহেলা বৈশাখের দিন নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না।
সাধারণ মানুষকে ব্যাগ বা ব্যাকপ্যাক, দিয়াশলাই ও লাইটার বহন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় তথ্য সঙ্গে রাখার কথাও বলা হয়েছে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এই আয়োজনকে নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করবে।
সভায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।