সাভারে জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে বিপাকে পোশাক শিল্প

ইউএনবি

এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম

সাভারে জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে বিপাকে পোশাক শিল্প

তীব্র লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটে সাভারের পোশাক কারখানায় উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। ফাইল ছবি/সংগৃহীত

শিল্প অধ্যুষিত সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় পোশাক কারখানায় জ্বালানি তেলের সংকট, সীমাহীন লোডশেডিং ও মূল্য বৃদ্ধির কারণে স্থবিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে পোশাক কারখানাগুলোতে ব্যাপক লোডশেডিং ও জ্বালানি তেলের সংকটে উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। চলমান পরিস্থিতিতে কারখানাগুলোর উৎপাদন ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সাভারের হেমায়তেপুরে অবস্থিত পোশাক কারখানা একেএইচ গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম জানান, জ্বালানি সংকট ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং ব্যাপক লোডশেডিংয়ের জন্য প্রতিদিন গড়ে শতকরা ১০ শতাংশ উৎপাদন কম হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে পণ্য পরিবহনে। জ্বালানি সংকটের কারণে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, পোশাক উৎপাদন কিছুটা কম হলেও সমস্যা নেই, কিন্তু উৎপাদিত পোশাক সময়মতো শিপমেন্ট না করতে পারলে বড় সমস্যা। জ্বালানি তেলের অভাবে সকালের পণ্যবোঝাই কাভার্ড ভ্যান বিকেলে পাঠাতে হচ্ছে। কোনো কোনো সময় পথেই তেল শেষ হওয়ায় কাভার্ড ভ্যান পথে আটকে যাচ্ছে। এ কারণে সঠিক সময়ে শিপমেন্ট করা যাচ্ছে না, ফলে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান তাদের ক্রয়াদেশ ধীরে ধীরে কমিয়ে দিচ্ছে।

বর্তমান এই সংকটের কারণে পোশাক কারখানাগুলোর ‘মহাবিপদের’ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোশাক শিল্প খাত সচল রাখার জন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

সাভার পৌর এলাকায় অবস্থিত বৃহত্তর শিল্প প্রতিষ্ঠান আল মুসলিম গ্রুপ এবং জে কে গ্রুপের কারখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় নিজস্ব গ্যাসচালিত জেনারেটর দিয়ে তারা কারখানার যাবতীয় কাজ পরিচালনা করছে। 

এ বিষয়ে জে কে গ্রুপের কারখানার মহাব্যবস্থাপক মাহবুব আলম জানান, জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের পোশাক কারখানায় উৎপাদন কম হচ্ছে। যেখানে প্রতিদিন ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হতো, সেখানে এখন ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। শুধু উৎপাদনই নয়, জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদিত পণ্য শিপমেন্টের জন্য চট্টগ্রামে পাঠাতে পণ্য বহনকারী কাভার্ড ভ্যান তেলের অভাবে পথিমধ্যে আটকে পড়ছে। ফলে সময়মতো পণ্য ডিপোতে পৌঁছাতে পারছে না। এ কারণে অনেক কারখানার মালিককে নিজ খরচে বিমানযোগে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে। এতে করে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কারণে গ্যাস দিয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়েও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পোশাক কারখানার মালিকরা।

কর্ণপাড়ার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের স্টিচেস লিমিটেড পোশাক কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় তারাও নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে কারখানার কার্যক্রম সচল রেখেছে।

ওই কারখানার প্রধান উৎপাদন পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এভাবে আর কয়েকদিন চলতে থাকলে কারখানা চালানো কষ্টকর হয়ে পড়বে। এ কারখানায় প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক রয়েছে। প্রতিদিন এখানে ১৫ থেকে ২০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হলেও এখন সেটা কমে ১০ হাজারে নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক আকতার উজ্জামান লস্কর বলেন, চাহিদার চেয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন কম হওয়ায় এবং চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের যোগান না পাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই উৎপাদন বাড়বে। এতে করে বিদ্যুতের সরবরাহ ঘাটতি পূরণ হবে।


 

Link copied!